
ফাতেহ ডেস্ক:
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পারভেজ হোসেন বলেন, রক্তের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে হাসপাতাল।
তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রচুর পরিমানে মুসল্লি আহত হয়ে হাসপাতালে আসছে। আমরা সবাই মিলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।
শনিবার সকালে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে ঘটে গেল এমনই ভয়ঙ্কর ঘটনা। যেখানে ইবাদত করতে আসা শত শত মুসল্লি এখন আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বেডে।
জানা যায়, জোড় ও বিশ্ব ইজতেমার মাঠ প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছুদিন থেকেই মাঠে অবস্থান করছিলেন তাবলীগের সাথীগণ। সকাল ১১ টার দিকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা মাঠ দখল করতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় সাদ অনুসারীরা মাঠের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দফায় দফায় হামলা চালায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, লাঠি দিয়ে বেধরক পেটানো হচ্ছে সাথীদের। অকেনের পুরো পাঞ্জাবি রঙ্কে রঙিন। অনেকের মাথা ফেটে চৌচির। কারো নাক মুখ কেটে গেছে।
মাঠে অবস্থানরত অনেকেই জানান, অন্যদিনের মতোই ইজতেমা মাঠে ইবাদতে লিপ্ত ছিল তাবলীগের সাথী ও উলামায়ে কেরাম। এদিকে সাদ অনুসারীরা যেন ভেতরে ঢুকতে না পারে সে জন্য গেটের পাহারায় ছিলেন অনেকে।
বেলা ১১ টার দিকে হঠাৎ করেই তারা লাটিসোটা হাতে মাঠে প্রবেশ করে। তারা তাবলীগের সাথী, মুরব্বি ও ছাত্রদের বেধরক পেটাতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই জানান, হামকারীদের বেশির ভাগের টার্গেট ছিল মাদরাসার ছাত্ররা। নিরিহ এসব ছাত্রকে দেখে লাঠি হাতে দৌড়ে আসে হামলাকারীরা।
প্রসঙ্গত, আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টঙ্গী ময়দানে তাবলিজ জামাতের নিয়মতান্ত্রিক জোড় অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের ইজতেমা। সে মুতাবেক মাঠ প্রস্তুতের কাজ করছিলেন তাবলীগের সাথীগণ।
এদিকে মাওলানা সাদ অনুসারীরাও আলাদাভাবে ৩০ নভেম্বর থেকে জোড় করার ঘোষণা দেন। এবং গত ২৭ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে মাঠ দখলের কথাও বলেন। এর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে।
মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের একজন শীর্ষ মুরব্বি। তবে গত কয়েক বছর ধরে তার নিজেকে আমির দাবি ও নবীর শানে বিতর্কিত কিছু বক্তব্যসহ কিছু ভুল মাসআলা দেয়ায় তা সংশোধনের চেষ্টা করেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দসহ বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম।
