
উমায়ের চৌধুরী:
রোহিঙ্গাদের অকৃতজ্ঞতা বা উগ্র আচরণে অনেকেই কষ্ট পান। পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এজন্য আপনি মজলুমকে ব্লেইম না কইরা জালেমের দিকে আংগুল তুলেন। স্বাভাবিক হিউম্যান নেচার আপনাকে বুঝতে হবে। এই জাতি এত লম্বা একটা সময় পারসিকিউশান আর অপ্রেশান এর ভিতর দিয়ে বেঁচে আছে। টার্গেটেড ইথনিক ক্লিনজিং চলছে সেখানে। অন্তত দুইটা জেনারেশন কোনো ভাল কিছু পায়নি। পেয়েছে শুধু অত্যাচার, বৈষম্য। অমানসিক আচরণ এবং এই হস্টাইল এনভাইরনমেন্ট মানুষের চরিত্র এবং কাজকর্মে প্রভাব ফেলে প্রকটভাবে।
আপনি দেখবেন দেশের যে এলাকায় ঝড়-ঝাপ্টা, দুর্যোগ বেশি তাদের আচরণ কিছুটা রুক্ষ, স্বার্থপরের মত। কারণ, নিজ সংগ্রামে খুব অল্পই অন্যকে পাওয়া যায়। নিজেকেই টিকে থাকা লাগে যুদ্ধ করে। মনে আছে মুসাকে বনি ইসরাইলের সেই ব্যক্তি কিভাবে চিনিয়ে দিল হত্যাকারী হিসেবে? অথচ আগের দিনই মুসা এই লোককে মিসরীয়র হাত থেকে বাঁচিয়েছে। তারে বাঁচাইতে যেয়ে মিসরীয়ই মারা গেল মুসার হাতে। এই অদ্ভূত ফলাফলে মুসা আশ্চর্য হয়ে ভয়ে মাদয়ানে পালিয়ে যায়। বনী ইসরাইলের জাতগত অকৃতজ্ঞ আচরণের বাহিরে গিয়ে এই একটা আচরণকে ব্যাখ্যা করা যায় মানুষের স্বাভাবিক আচরণ দ্বারা। এরপরও তো মুসা বনী ইসরায়েলের হেদায়াত এবং মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, দোয়া করেছেন আকুলভাবে।
লম্বা সময় অত্যাচারিত হলে মানুষ সেলফিশ হয়, নিজেকে বাঁচানোর জন্য শুধু পথ খুঁজে। এজন্য অত্যাচার বেশী সময় সহ্য করা উচিৎ না। সম্মিলিতভাবে এর প্রতিরোধ করা উচিৎ। বিড়ালের মত বাঁচতে বাঁচতে হিউম্যান নেচার বিড়ালের মত হয়ে যায়। লম্বা সময় অত্যাচার সইতে সইতে ডিগনিটি কমে যায়। সেলফ এস্টিম বইলা কিছু থাকেনা। সইতে সইতে চামড়া মোটা হয়ে যায়। যেমন হয়েছে বাংগাল মুলুকের জনগণের। এজন্যই মুসলিমদের বলা হয় একই শরীরের মত। এক অঙ্গে লাগলে পুরো শরীর সেখানে ঝাপিয়ে পড়বে। সেটা হচ্ছে না।
এর মধ্যে রোহিঙ্গা এবং বাংগাল উভয় দিকেই অনেক সুবিধাভোগী লোকের কারবার। দুইটাই জাতে এবং তালে একই প্রায়। বিদেশে যারা থাকেন তারা জানেন বিদেশে বাংলাদেশীদের ছোটোলোকীপোনামোর কথা। আমি একটা ছোট্ট প্রজেক্টে কাজ করতে যেয়ে দেখেছি আংগুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রোহিঙ্গা নেতাদের যাদের এখন বাংলাদেশী পাসপোর্ট আছে। এরা চুক চুক করে বেড়ায় টাকা আর সুযোগের জন্য। অনেকের দেশে-বিদেশে ব্যবসা আছে। এরপরও ক্যাম্প এদের কাছে ইনকামের বিরাট এব সোর্স। এরপরও আমরা কাজ করব। আমরা তো মানুষের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করব এমন কথা ছিল না। দু মুঠো ভাত, দু গোছা কাপড় ছাড়াও তাদের আরো বৃহৎ কিছু দেবার জন্য আমাদের এগুতে হবে।
আপনি খুব বেশী আশা করছেন রোহিংগাদের কাছে। রোহিংগারা হলো আপনার হারিয়ে যাওয়া ভাই যে দশকের পর দশক কঠিন জুলুমের মধ্যে ছিল। আপনি তারে মানসিক-শারীরিক কোনোদিক থেকেই সুস্থ্যভাবে পাননি। কেন বড় ভাইসুলভ/মনিবসুলভ আচরণ তার কাছে প্রত্যাশা করছেন? বড় ভাইয়ের মত লাঠি নিয়া আগায়া গেছেন তারে হেল্প করার জন্য? বাঁচানোর জন্য? যেইটা করছেন সেটা হলো মার খাইয়া আধমরা হয়ে আসা ভাইরে নিজ বাড়ির উঠানের এক কোনায় কোনরকম থাকতে দিছেন, খাওয়া পরাটাও বাহির থেইকা আসতেসে বেশির ভাগই। এই হলো আপনার উম্মাতি দায়িত্বের নমুনা। আর আপনারা তুরস্ক-সিরিয়ায় সালতানাত-বিপ্লব কায়েম করে ফেলছেন! লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে
