সেনাবাহিনী নামার পর মাঠের পরিস্থিতি কতটা শান্ত?

রাগিব রব্বানি

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে সারাদেশে চলছে সেনবাহিনীর টহল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে তাদের এ টহল জারি থাকবে ২ জানুয়ারি অবধি।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ইসলামি আন্দোলনসহ সরকার-বিরোধী পক্ষ অভিযোগ করে আসছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের প্রার্থী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে করতে দেওয়া হচ্ছে না নির্বাচনী প্রচারণা।

গণমাধ্যমের তথ্য মতে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা নোয়াখালীতে গত কয়েকদিনে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামার পর পরিস্থিতির কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?

নোয়াখালীর শহরতলী থেকে কয়েকজন ভোটার জানালেন, এই কয়দিন তারা খুব আতঙ্কের ভেতর কাটিয়েছেন। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর তাদের আতঙ্ক খানিকটা দূর হয়েছে।

শহরতলীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইদরিস আলি জানিয়েছেন, ‘সেনাবাহিনী নামার আগে আমাদের এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় খুব বিশৃঙ্খলা ছিল। আমরা সাধারণ মানুষ সারাক্ষণ একটা আতঙ্কের ভেতর থাকতাম—কখন কী হয়। তবে সেনাবাহিনী নামার পর থেকে এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত হয়েছে।’

নোয়াখালী জেলায় স্থানীয় ভোটারদের তথ্য মতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও দেশের অন্যান্য জায়গায় হামলা-বিশৃঙ্খলা এখনও অব্যাহত আছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও গতকাল সোমবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ধানের শীষের ১৯ প্রার্থীসহ এসব হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, গতকাল সোমবার ছিল সবচেয়ে ভায়োলেন্ট দিন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে পুলিশও আক্রমণ চালিয়েছে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর।

এ দিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দিদারুল আলমের গণসংযোগে পেট্টোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দিদারুল আলমের তিনজন কর্মী দগ্ধ হন।

এ ছাড়া আজ সন্ধ্যায় ঢাকা-৩ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন। চুনকুটিয়া-কদমতলা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানো কালে তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনিসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে বিএনপি কার্যালয় থেকে।

গতকাল থেকে সারাদেশে সেনাবাহিনীর টহল সত্ত্বেও হামলা-সংঘর্ষের এসব ঘটনা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগের সংবাদঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের জরুরি বৈঠক
পরবর্তি সংবাদপুলিশি বাধায় আফরোজা আব্বাসের কর্মসূচি বাতিল