শাহবাগে ছাত্রলীগের নির্মম হামলার বর্ণনা দিলেন মুফতি হুজাইফা

ওমর ফারুক: ‘দিনটা ছিল রোববার। অনেকদিন যাবত জ্বরে ভূগছিলাম। শরীরটা ছিল খুবই দুর্বল। পিজি হসপিটালে ডাক্তার দেখিয়ে রিক্সায় উঠি। শাহবাগের অবস্থা তখন থমথমে। অনেকটা স্বাভাবিকও। নিত্য দিনের মতোই মানুষজনের চলাফেরা। কোথায় কী হচ্ছে আমার জানা নেই। হঠাৎ দেখি দশ বারজনের একটি গ্রুপ আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তারা রিক্সা থামিয়ে দিল। কোনো কথা নেই বলা নেই আমার ওপর পাশবিক হামলা শুরু।’

অনেকটা এভাবেই এ প্রতিবেদকের কাছে শাহবাগে ছাত্রলীগের পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন নিরাপরাধ আলেম মুফতি হুজাইফা। ছাত্রলীগের হাত থেকে প্রাণে বাঁচলেও তাকে স্বাভাকি জীবনে ফিরতে হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ পরে। চারদিন যাবত মিটফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর গতকাল সোমবার বাসায় ফিরেছেন। তবে কথা বলার শক্তি ছিল না এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। একদিন বিরতি দিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তিনি সেই নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য তুলে ধরেন।

মুফতি হুজাইফা বলেন, ‘আমার চিৎকারে তাদের হৃদয়ে সামান্য দয়া ধরেনি। একের পর এক কিল ঘুষি পড়তে থাকে আমার ওপর। ভাগ্যক্রমে সেসময় তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। না হয় প্রাণেই আমাকে মেরে ফেলতো। আমার মোবাইলটা ছিনিয়ে নিয়েছে হামলাকারীরা। মূলত মোবাইলে কথা বলতে দেখেই তারা আমাকে কোটা আন্দোলনকারী বলে মনে করেছিল। পূর্ব থেকেই তারা এ ধরণের কর্মকা-ের জন্য প্রস্তুত ছিল। এ হামলার ফলে আমার টাইফয়েড হয়ে ছিল। গত শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সোমবার বাসায় ফিরেছি। এ নির্মমতার কোনো বিচার নেই।’

মুফতি হুজাইফা চলমান কোটা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত নন। তিনি কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসার হাদিস ও ইফতা বিভাগের শিক্ষক। তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মাদরাসায় ফতোয়া বিষয়ক (ইফতা) পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর চলতি বছর কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসায় মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসাবে যোগ দিয়েছেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুফতি মুহাম্মাদ হুজাইফাকে মারধর ও নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি চিৎকার করে মারধরকারীদের বলছেন, আমি কিছুই করিনি, আমি কিছুই করিনি, আপনারা তো আমার কথা শুনবেন। তবে হামলাকারীরা তার কোনো কথাই শোনেনি।

জানা গেছে, শাহবাগে মুফতি হুজাইফাসহ ছয়জনকে ধরে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো. আল জুবায়ের ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের স্কুলছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক সৈয়দ আরাফাত।