
ফাতেহ ডেস্ক
সম্প্রতি সৌদি সরকারের নীতিমালায় যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তাতে ৬০ বছর বয়সে সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ইকবালকে। তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে সৌদি সরকার অর্থনীতি বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদেশীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে সৌদি সরকার। শুধু তা-ই নয়, বিদেশী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীলদের ওপর ফি আরোপ করেছে এবং কোন ক্ষেত্রগুলোয় বিদেশী শ্রমিক কাজ করতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশটিতে জীবনধারণ ব্যয় প্রচুর বেড়ে গেছে। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ইকবালের মতো স্বল্প মজুরি পাওয়া বিদেশী শ্রমিকরা।
এ পরিস্থিতিতে দেশটির শ্রমবাজার থেকে বিদেশী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে; যা সৌদি আরবের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। বিদেশী শ্রমিকদের আকস্মিক বহির্গমনপ্রবাহ সৌদি অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টায় থাকা যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদির পরিসংখ্যান দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের শুরু থেকে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত শ্রমবাজার থেকে ১১ লাখের বেশি বিদেশী কর্মী সৌদি ছেড়েছে। অবশ্য বিদেশী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ চলে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৩-১৭ সালের মধ্যে হাজার হাজার বিদেশী কর্মী সৌদি ছেড়ে যায়। যদিও তখন প্রস্থানের কারণ ছিল ভিন্ন।
এ মুহূর্তে হতাশাজনক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্টে সংগ্রাম এবং সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টায় রয়েছে সৌদি। এ অবস্থার মধ্যে শ্রমবাজারে পরিবর্তন দেশটিতে অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সৌদি সরকারকেও ভাবিয়ে তুলেছে।
ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের শেষের দিকে বিদেশী কর্মীদের ওপর ফি আরোপের নীতিমালা তুলে নেয়া বা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন সৌদি কর্মকর্তারা। তবে নীতিমালায় পরিবর্তন-সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি এবং ফি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
