যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা : আফগান বাহিনীতে হতাশা, প্রভাব বাড়ছে তালেবানের

হামমাদ রাগিব

টানা ১৭ বছরের যুদ্ধে আফগানের অপূরণীয় ক্ষতি এবং নিজেদের সেনা, শক্তি ও বিপুল অর্থের বেফায়দা অপচয় ছাড়া আর কোনো সফলতা লাভ করতে না পারায় কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটি থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছিল সেই তালেবান হামলা শুরুর প্রাক্কালে বিপর্যয়ের শিকার হলেও, এই ১৭ বছরে ক্রমশ নিজেদেরকে শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য প্রমাণ করে আসছে।

গতকাল শুক্রবার তালেবান মুখপাত্র জাবিহুউল্লাহ মুজাহিদ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা এএফপি’র সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, আফগানিস্তান থেকে চলে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মরিয়া। এসময় তিনি আরও জানান, শান্তি চুক্তির আওতায় তালেবানের ইসলামি ব্যবস্থায় সকল আফগানের অংশগ্রহণ থাকবে। কারণ, নব্বইয়ের দশকে তাদের চার বছরের শাসনামলে আফগান জনগণকে তারা সুশাসন উপহার দিয়েছিলেন। যার কারণে ১৭ বছর ধরে চলা মার্কিনিদের চাপানো এ যুদ্ধে সাধারণ আফগানিদের ব্যাপক আনুকূল্য পেয়ে আসছে তালেবান।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে কাতারের দোহায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবানদের টানা ছয় দিন আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে ওই আলোচনা দুই দিন চলবে বলে ঠিক করা হয়েছিলো।

তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ বলেন, নীতিগতভাবে একটি চুক্তি হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, আমেরিকানরা সততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এবং তারা এ ব্যাপারে অবিচল থাকলে, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা আশা করছি যে আফগানিস্তানে বিদেশি দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে।

তালেবান মুখপাত্র আরও বলেন, মনে হচ্ছে ট্রাম্প অত্যন্ত সিরিয়াস।

বিশেষ মার্কিন দূত জালমি খলিলজাদও চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন যে চুক্তির একটি খসড়া কাঠামো তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পথে এখনও বড় বাধা রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১৭ বছরের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে এই অগ্রগতির প্রশংসা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ক্রমাগতভাবে ভূমি হারাচ্ছে মার্কিন মদদপুষ্ট সরকারি বাহিনী। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা যেন তাদের পরাজিত মনবলকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। অন্যদিকে তালেবানরা তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে চলেছে। তালেবানদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলা বৃদ্ধির পরও এই অবস্থা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে।

ইউএস স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগান রিকনসট্রাকশন (এসআইজিএআর)-এর সর্বশেষ ত্রৈমাসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আফগানিস্তানের ৪০৭টি জেলার মধ্যে ৫৩.৮ শতাংশ সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো। এই এলাকায় দেশের ৬৩.৫ শতাংশ মানুষের বাস। দেশটির বাকি এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলছে।

কাবুলের মোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ও আমেরিকার মদদপুষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইনতিজার খাদিম আল-জাজিরাকে বলেন, এটা শুধু যে তালেবানরা আরও ভূমি দখল করছে তা নয়, আমরা কেন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছি না সেটাও দেখা উচিত। আমরা কেন ১৭ বছর ধরে কাদায় আটকে আছি সেটা দেখতে হবে। এরপরও কেন যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আফগান সরকার দাবি করে চলেছে যে তারা লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। অথচ তাদের রিপোর্টেই বলা হচ্ছে আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডের আয়তন কমে আসছে।

এদিকে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মিটিংয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন ২০১৪ সালে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজার সেনা সদস্য নিহত হয়েছে।

আগের সংবাদইশা ছাত্র আন্দোলনের দাবি ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, তারা ধর্মভিত্তিক দল নয়
পরবর্তি সংবাদএসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ