
আশরাফ উদ্দীন খান
প্রখ্যাত দার্শনিক ও কবি আল্লামা মুহাম্মাদ ইকবাল তাঁর একটি কবিতায় লিখেছিলেন, “চীন ও আরব হামারা, হিন্দুস্তা হামারা, মুসলিম হে হাম, ওতান হায়ে সারা জাহা হামারা…”। তাঁর এই কবিতা ছিল মূলত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদীসের ‘কাব্যিক রূপ। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এক হাদিসে এরশাদ করেছেন, “এমন কোনো কাঁচা ঘর বা পাকা ঘর নেই যেখানে আল্লাহ তায়ালা এই দীন পৌঁছে দেবেন না। তাই সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর যুগ থেকেই দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ইসলাম ধর্মের আলো প্রবেশ করতে থাকে। দুনিয়ার যে কোনো অঞ্চলেই ইসলাম, মুসলমান, মসজিদ, মিনারসহ ইসলামের যাবতীয় ‘শিআর’-এর উপস্থিতি দেখা যায়। সেই হিসাবে বর্তমান দুনিয়ার চীনও ইসলামের শুরুতেই দীনে ইসলামের আলোতে আলোকিত হয়ে যায়।
চীন অনেক আগ থেকেই বাণিজ্যকেন্দ্র হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিল, তাই ইসলামের আবির্ভাবের আগেই আরবদের সাথে চীনের সম্পর্ক গড়ে উঠে ব্যবসা-বাণিজ্যের সূত্র ধরে। আরবে ইসলামের আবির্ভাবের শুরুতেই চীনে ইসলামের আলো প্রবেশ করে। ঐতিহাসিকভাবে এটা প্রমাণিত যে, ৬১৬-৬১৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে সাহাবি হযরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.-এর মাধ্যমে চীনে ইসলাম ধর্মের পরিচয় ঘটে। কারো মতে তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রা.-এর আমলে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের চীনে ইসলামের আগমন ঘটে।
চীন বহু নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুসিত দেশ। এখানে প্রায় ৫৬টি জাতির বসবাস। এদের মধ্যে ১০টি জাতির মধ্যে ধর্ম হিসাবে ইসলাম প্রভাবশালী। সেই ১০টি জাতি হচ্ছে হুই, উইঘুর, কাযাক, কিরগিজ, তাতার, উজবেক, তাজিক, দুংগশায়ান, সালারা, বাওয়ান। তবে এই অঞ্চলের মুসলমানদের সাথে অন্য অঞ্চল বিশেষ করে আরব দেশের সম্পর্ক কিছু কালের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যেমন বিশিষ্ট আরবি লেখক, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আমির শাকিব (১৮৬৯-১৯৪৬) মন্তব্য করেছিলেন “চীনের মুসলমানেরা যেন এই দুনিয়াতে বাস করে না।” অন্যদিকে মিশরীয় সাংবাদিক ও চিন্তাবিদ ফাহমি হুয়াইদি ১৯৮০ সালে চীন সফরে যান এবং ফিরে এসে তিনি সেখানকার মুসলমানদের অবস্থাকে “হারানো ফাইল”-এর সাথে উপমা দেন। এর মাধ্যমে বুঝা যায় যে, চীনের মুসলমানদের সম্পর্ক মুসলিম উম্মাহ ও মুসলিম বিশ্বের সাথে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল।
চীনে মুসলমানদের ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসের মতোই প্রাচীন ইতিহাস। ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে চীনের মুসলমানেরা ইসলামের ইবাদত ও আচার-আচরণ গ্রহণ করেন ও পালন করতে থাকেন। সাহাবি হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.-এর হাতে চীনের প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়।
ধর্মীয় জাগরণের ক্ষেত্রে চীনের শায়েখ ইলয়াস হু দিং শু (১৫২২-১৫৯৭)-কে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। কারণ তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে কুরআন ও দীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটে। এরপরে ধীরে ধীরে সেই ব্যবস্থা আরো মজবুত ও প্রসারিত হতে শুরু করে। চীনে শুরু থেকেই দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা দেখা যায়। এক. মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। দুই. স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা।
মসজিদভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় মূলত কুরআন ও দীনের জরুরি বিষয় শিক্ষা দেওয়া হতো। পাশাপাশি একটা বিশেষ মানহাজ ছিল, সেই মানহাজকে ‘১৩ কিতাবের মানহাজ’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। সেখানে যে কিতাবসমূহ পড়ানো হতো তার অধিকাংশ আমাদের কওমি শিক্ষায় পড়ানো হয়ে থাকে। কিতাবসমূহের নাম : “আল-কিরায়াতুল খুমাসিয়াহ” (এই কিতাবের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড সরফ বিষয়ে, তৃতীয় খণ্ড একশ আমেল বা মিয়াতে আমেল বিষয়ে ও চতুর্থ ও পঞ্চম খণ্ড নাহু সম্পর্কে), দাওয়ুল মিসবাহ (নাহু সম্পর্কে), শারহে জামি, তালখিসুল মিফতাহ, আকাইদ নাসাফি, শারহে বিকায়াহ, খুতুব, আরবায়িন, মিরসাদ (দর্শন), আল্লামা জামি র.-এর আশিয়াতুল লামায়াত, জাওয়িহুল মিনহাজ, শায়েখ সাদির গুলিস্তা ও কুরআন কারিম।
মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠতে থাকে। ১৯০৭ সালে শায়েখ আবদুর রাহমান অয়াং হাও রান একটি উন্নতমানের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষার পাশাপাশি চীনা ভাষায় ইসলামি উলুমের শিক্ষা দানের ব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর পরে আরো বিভিন্ন স্থানে এই ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে।
এরপর ১৯১৯ সালের দিকে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা দানের উদ্দেশ্য নিয়ে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠতে থাকে। তবে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব (১৯৬৬-১৯৭৬) ও আধুনিক চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হতে থাকে। (আল-ইসলাম ফিস-সিন)।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মের বহু উপাসনালয় বন্ধ ও ধ্বংস করা হয় এবং কুরআনের কপি নষ্ট করা হয়। ১৯৭৫ সালে হুই মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়, যা ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিরুদ্ধে সংঘটিত একমাত্র শক্তিশালী জাতিগত বিদ্রোহ। বিদ্রোহ দমন করতে পিএলএ বিভিন্ন গ্রামে মিগ ফাইটার বিমান ব্যবহার করে রকেট বর্ষণ করে ১৬০০ হুইকে হত্যা করে। চীন সরকার মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীকে কুসংস্কারে বিশ্বাস ও সমাজতন্ত্র-বিরোধী চেতনার জন্যে দায়ী করে। ১৯৭৮ সালে, সরকার মুসলমানদের প্রতি তার নীতি শিথিল করতে শুরু করে।
সাংস্কৃতিক বিপ্লব
যা গণচীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব নামে বৈশ্বিক অঙ্গনে পরিচিত। মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে বৃহৎরূপে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এ বিপ্লব সংঘটিত হয়। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এটি হয়েছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মাও সেতুংয়ের প্রস্তাবে পুঁজিবাদী ও প্রাচীনকালের ধ্যান-ধারণা থেকে দূরে রাখতে এবং প্রকৃত সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ বিপ্লবের সূচনা ঘটে। এ ছাড়াও মাওবাদ দলে প্রভাব বিস্তারের জন্য এর সূত্রপাত হয়।
মাওয়ের সমর্থক ও দেং জিয়াওপিংয়ের সমর্থকের কারণে কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়ে যায়। চীনের তরুণদের সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে ‘লিটল রেড বুক’ নামে মাওয়ের বক্তব্যমালা প্রকাশ করেন। তরুণদেরকে নিয়ে গঠিত রেড গার্ডও জনপ্রিয়তা পায়। তারা মাওয়ের বক্তব্যগুলোকে সর্বত্র প্রচার করতে থাকে। এ ছাড়াও তারা মাওয়ের বিরুদ্ধবাদীদের মারধর করতে থাকে ও বাড়ী-ঘর, যাদুঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। অনেক জায়গাতেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ও চীনে অরাজক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উদ্দেশ্য হলো একটি সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সংস্কৃতির জন্ম দেয়া, প্রাচীন পুঁজিবাদী ও সামন্তীয় সংস্কৃতির বিলোপ সাধন করে সমগ্র সমাজে জ্ঞানভিত্তিক বুদ্ধি বৃত্তির জাগরণ সৃষ্টি করা। টেকসই সমাজতান্ত্রিক সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে সাংস্কৃতিক বিপ্লব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই তত্ত্বটি ভি আই লেনিনের, এটিকে সমাজতন্ত্র বিনির্মাণে এক আবশ্যিক অঙ্গ হিশেবে মূল্যায়ন করেন। সোভিয়েতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব তেমন অগ্রসর না হলেও পরবর্তীকালে চীনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
মে, ১৯৬৬ সালে ধীরে ধীরে শুরু হওয়া এ বিপ্লবটি ১৯৬৯ সালে শেষ হয়। নবম জাতীয় পার্টি কংগ্রেসের এক সভায় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তা স্বত্ত্বেও ১৯৭১ সালে সামরিক কর্মকর্তা লিন বিয়াওয়ের দেহাবসান পর্যন্ত এর প্রভাব সক্রিয় ছিল। মাওয়ের দেহাবসানের পর চার সংঘবদ্ধ ব্যক্তিকে ১৯৭৬ সালে গ্রেফতার করা হয়। সংস্কারপন্থী দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত মাওয়ের নীতিগুলো অপসারণ কার্যের সূচনা ঘটে। ১৯৮১ সালে পার্টি ঘোষণা করে যে, সাংস্কৃতিক বিপ্লব চীন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দল, দেশ ও ব্যক্তিকে অনেক পিছিয়ে নিয়েছে এবং তা গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। (বাংলা উইকিপিডিয়া)
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ে মুসলমানদের উপরে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে। বিপ্লবীদের উদ্দেশ্য ছিল প্রাচীন চীনকে ভেঙ্গে দিয়ে নতুন চীন প্রতিষ্ঠা করা। তাদের মতে ধর্ম হচ্ছে জনগণের আফিম, তাই সকল ধর্মের উপরই তারা আক্রমণ শুরু করে। মুসলিম উম্মাহকে শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপ্লবীরা মুসলমানদের ধরে ধরে ‘পরিশুদ্ধ করণ কেন্দ্রে’ নিয়ে যেতে শুরু করে।
মুসলিম উম্মাহর উপর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রভাব
*মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়
*ধর্মীয় আচার ও ইবাদত বন্ধ করে দেওয়া হয়
*মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়
*কুরআন ও দীনি কিতাব বাজেয়াপ্ত করা হয়
*আলেম-উলামাকে জেলে পাঠানো হয়
*অনেকে দীন-ইমান রক্ষা করতে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়
*এবং মুসলমানদেরকে হারাম কাজ করতে বাধ্য করা হয়, যেমন রমজানে রোজা না রাখা, ইত্যাদি।
গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোয় আটক রাখা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। চীন সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। (প্রথম আলো, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮)। প্রতিবেদনটিতে চীনা মুসলমানদের উপর আরো কিছু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয় এইভাবে-
ধর্মীয় স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ
ধর্মীয় ক্ষেত্রে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীন সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২০০৯ সালের দাঙ্গার পর চীনা সরকারের সমালোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের দায়ে চীন সরকার গোপনে বেশ কয়েকজন উইঘুর মুসলিম বুদ্ধিজীবীর বিচার করেছে। তারা আরও বলেছে, ধর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যালঘুদের ভাষাশিক্ষা নিষিদ্ধ করার চীনা নীতি জিনজিয়াংয়ে অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ।
চরমপন্থী মতাদর্শের শিক্ষা চালু
জিনজিয়াংয়ে স্থানীয় আইন পরিবর্তন করে শিক্ষাশিবিরের ‘চরমপন্থী মতাদর্শিক শিক্ষা’ বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছে চীন। বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব শিবিরে বন্দীদের মান্দারিন ভাষা শিখতে বাধ্য করা হয়। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হয়। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই শিক্ষাশিবিরের পাশাপাশি উইঘুর শিশুদের ক্যাম্প ও স্কুল রয়েছে, যেখানে তাদের পরিবার, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়।
মেকিং ফ্যামিলি
২০১৬ সালে ‘মেকিং ফ্যামিলি’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করে চীন। এর মাধ্যমে উইঘুর পরিবারকে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে পাঁচ দিনের জন্য তাদের ঘরে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের হোস্ট করতে বাধ্য করে। চীন রাষ্ট্রীয়ভাবে উইঘুরদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।
চীন সরকার উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনের জন্য তিনটি অভিযোগ ব্যবহার করেছে—চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। প্রথম অভিযোগ, যেকেউ গৌরব প্রকাশ করে তাদের উইঘুর পরিচয় প্রকাশ করে। আবার শিক্ষাশিবিরে পাঠানো লাখো বিশিষ্ট উইঘুর ব্যক্তিত্ব গত কয়েক বছরে আটক বা অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এঁদের মধ্য আছেন ইসলামি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ সালিহ হাজিম, অর্থনীতিবিদ ইলহাম তোকতি, নৃতাত্ত্বিক রাহাইল দাউদ, পপশিল্পী আবদুর রহিম হায়াত, ফুটবল খেলোয়াড় এরফান হিজিম প্রমুখ।
বর্তমান সভ্য দুনিয়ার একটি বিশেষ অলংকার হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকারের ঘোষণা দিয়ে মানুষের ধর্ম, বিশ্বাস, ভাষা, সংস্কৃতিসহ যাবতীয় মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। যে কোনো মানুষের অধিকার রয়েছে তাঁর ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রয়োগ ঘটানোর। কিন্তু চীনের মুসলমানদের অবস্থা দেখে মনে হয় যে সেখানকার মুসলমানেরা তাদের সেই অধিকারটুকু তো সঠিকভাবে ভোগ করতে পারছেই না বরং তাদেরকে সে জন্যে নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই অবস্থায় এই নির্যাতন ও পরিস্থিতির কোনো অভিযোগ পেশ করার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান বা কাউকে দেখা যায় না, তাই সেখানে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের খবর দেখে-শুনেও পুরো বিশ্ব নীরব থাকে।
