জীবনী ‍সাহিত্য : ইসলামি ইতিহাসে যেভাবে চর্চিত হয়েছে

ইমরান রায়হান :

পূর্বপুরুষ ও বরেণ্যদের জীবনী সংরক্ষণের বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মধ্যে চালু ছিল। পূর্বপুরুষের স্মরণে তারা মূর্তি নির্মাণ করতো, পাথরে খোদাই করে একে দিত তাদের বীরত্বগাঁথার চিত্র। মুসলমানদের পূর্বে রোমানরাও এভাবেই তাদের বীরপুরুষদের জীবনি ও স্মৃতি সংরক্ষণ করতো।

মুসলমানরা শুরু থেকেই জীবনী সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণে বিশেষ মনোযোগী থেকেছে। সাহাবায়ে কেরাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের প্রতিটি তথ্যই সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদের ছাত্র তাবেয়ীদেরকে জানিয়েছেন। তখনও ব্যাপকভাবে লেখালেখির সূচনা হয়নি, ফলে এসব তথ্য সংরক্ষণের জন্য তারা নিজেদের স্মৃতিশক্তির উপরই নির্ভর করতেন। আরবরা বরাবরই ছিলেন ঈর্ষনীয় স্মৃতিশক্তির জন্য বিখ্যাত, ফলে এ নিয়ে তাদের কখনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী সংরক্ষণের মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম যে ধারার সূচনা করেন পরবর্তী দিনগুলিতে তা আরো বেগবান করেন তাবেয়ীরা। তারা ছিলেন সরাসরি সাহাবায়ে কেরামের ছাত্র। তারা সাহাবায়ে কেরামকে কাছ থেকে দেখেছিলেন, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তাদের আচার-আচরণ ও কর্মপন্থা। তারপর সেসব তারা জানিয়েছেন তাদের ছাত্রদের, ইসলামের ইতিহাসে যারা পরিচিত তাবে তাবেয়ী নামে। ততদিনে ইলমের জন্য সফর করার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়েছিল, পরবর্তী দিনগুলিতে শাস্ত্রবিদরা একে নাম দিয়েছিলেন রিহলাহ, এবং এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়েও তারা রচনা করেছিলেন অনেক বইপত্র। রিহলাহর কল্যাণে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র সফর করছিলেন জ্ঞান অন্বেষণে আগ্রহী আলেম ও ছাত্ররা, প্রতিটি অঞ্চলে তারা অর্জন করছিলেন নতুন নতুন জ্ঞান। এসময় অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে জীবনী শাস্ত্রেও তারা গভীর জ্ঞান অর্জন করতেন। খাইরুল কুরুনের যুগে বিভিন্ন দরসগাহের পাঠ্যসূচি থেকে দেখা যায়, সেখানে সিয়ার ও মাগাজির ঘটনাবলী বর্ননা করা হত। এভাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনী সংক্রান্ত তথ্যগুলো সংরক্ষিত হতে থাকে।

মুসলিম উম্মাহর কাছে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মুসলিমরা প্রথমেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী সংকলনের কাজ শুরু করে। তবে হিজরী প্রথম শতাব্দীতে নবিজির কোনো সীরাত রচনার প্রমাণ নেই। গবেষকদের মতে , ইবনু ইসহাকই (মৃ-১৫১ হিজরি) প্রথম ‘আস সিরাতুন নববিয়্যাহ’ নামে নবিজির জীবনী লেখেন। একই সময় ‘আল মাগাযি’ নামে আরেকটি সীরাতগ্রন্থ রচনা করেছিলেন মুসা ইবনু উকবা। তিনি ছিলেন অল্পবয়সী তাবেয়ীদের অন্যতম। তার সীরাতগ্রন্থটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল, বিশেষ করে মাজহাব চতুষ্টয়ের ইমামদের একজন, ইমাম মালেক (মৃ-১৭৯ হিজরি) এই গ্রন্থটির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় জীবনীশাস্ত্র সংকলনের কাজ। এ সময় লাইস বিন সাদ (মৃ-১৭৫ হিজরি) সংকলন করেন ‘আত তারিখ’ নামে একটি গ্রন্থ। একইনামে আরেকটি গ্রন্থ সংকলন করেন, ইমাম আবু হানিফার ছাত্র আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃ-১৮১ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ। ইমাম যাহাবী জানিয়েছেন, ওয়ালিদ বিন মুসলিমও (মৃ-১৯৫ হিজরি) জীবনিশাস্ত্র নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এভাবে জীবনীশাস্ত্র নিয়ে গ্রন্থ রচনার ধারা শুরু হয়, এবং ক্রমেই তা বেগবান হতে থাকে।

যে ধারায় লিখিত হয়েছে জীবনীসংক্রান্ত গ্রন্থগুলো

জীবনীগ্রন্থ প্রনয়নের ক্ষেত্রে মুসলিম লেখকরা প্রায়ই কয়েকটি ধারা অনুসরণ করতেন। কখনো তারা শুধু বিশেষ একটি শ্রেণীর জীবনি আনতেন। যেমন, কেউ কেউ শুধু সাহাবায়ে কেরামের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ ধারার উল্লেখযোগ্য দুটি গ্রন্থ হলো, আল ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ এবং উসদুল গাবাহ ফি মারিফাতিস সাহাবা। প্রথমটি রচনা করেছিলেন ইবনে হাজার আসকালানি (মৃ-৮৫২ হিজরি), সহিহ বুখারির সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থটির লেখক তিনি। পরেরটি রচনা করেছিলেন ইবনুল আসির জাযারি (মৃ-৬৩০ হিজরি) , ইতিহাস শাস্ত্রে আল কামিল ফিত তারিখ গ্রন্থটি লিখে মুসলিম বিশ্বে তিনি পরিচিত। তাশ কুবরাযাদাহ (মৃ-৯৬৮ হিজরি) লিখেছেন, ‘আশ শাকাইকুন নুমানিয়্যা ফি উলামাইদ দাওলাতিল উসমানিয়্যা’ নামক গ্রন্থ। এই গ্রন্থে তিনি উসমানি সালতানাতে বসবাসকারী আলেমদের জীবনি এনেছেন।

জীবনীকাররা কখনো শুধু নির্দিষ্ট পেশার মানুষদের জীবনী সংকলন করতেন। চতুর্দশ শতাব্দির আরব ঐতিহাসিক শিহাবুদ্দিন ফজলুল্লাহ উমরি (মৃ- ৭৪৯ হিজরি) রচিত ‘মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার’ নামক সুবিশাল গ্রন্থটি এই ধারার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই গ্রন্থের একেকটি খন্ডে তিনি একেক পেশার মানুষের জীবনী উল্লেখ করেছেন। ২৭ খন্ডে সমাপ্ত এই গ্রন্থে তিনি একাধারে মামলুক সুলতান, উজির, সেনাপতি, কবি, সাহিত্যিক, মুহাদ্দিস, ফকিহ, ব্যাকরণবিদ, গায়কসহ নানা পেশার মানুষের জীবনী আলোচনা করেছেন। এ ধারার আরেকটি উদাহরণ জালালুদ্দিন সুয়ুতি (মৃ-৯১১ হিজরি) রচিত ‘তারিখুল খুলাফা’ গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে তিনি শুধু খলিফাদের জীবনী এনেছেন। ইবনু আবি উসাইবিয়াহ (মৃ-৬৬৮ হিজরি) রচনা করেছিলেন চিকিৎসকদের জীবনী। সেই গ্রন্থের নাম ‘উয়ুনুল আনবা ফি তবাকাতিল আতিব্বা’। ইমাম যাহাবী (মৃ-৭৪৮ হিজরি) তার লিখিত ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’তে নানা শ্রেনী ও পেশার মানুষদের জীবনী এনেছেন।

কেউ কেউ মৃত্যুর সাল হিসেবে জীবনী রচনা করেছেন। এমনই একজন ইবনুল ইমাদ হাম্বলি (মৃ-১০৮৯ হিজরি)। তিনি রচনা করেছেন শাজারাতু যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব নামে ১০ খন্ডের একটি জীবনী গ্রন্থ। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম হিজরি থেকে ১০০০ হিজরি পর্যন্ত সময়ে যারা যারা মারা গেছেন তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনি আলোচনা করেছেন। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনু কাসির (মৃ-৭৭৪ হিজরি) তার লিখিত আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে প্রত্যেক বছরের আলোচনা শেষে সে বছর যারা মারা গিয়েছেন তাদের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ করেছেন। ফলে তার লিখিত ইতিহাসগ্রন্থটি হয়ে উঠেছে জীবনী জানার জন্য আকর গ্রন্থ। ইমাম যাহাবী (মৃ-৭৪৮ হিজরি) তার লিখিত ‘তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহিরি ওয়াল আলাম’ গ্রন্থে মৃত্যুসাল হিসেবে জীবনী এনেছেন।

কিছু গ্রন্থ রচনা হয়েছিল নামের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী। এসব গ্রন্থে আরবী বর্ননামালার ধারাবাহিকতা অনুসারে জীবনী বিন্যাস করা হয়। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনু খাল্লিকান (মৃ- ৬৮২ হিজরি) রচিত ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ গ্রন্থটি এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। ইবনে আসাকির (মৃ-৫৭১ হিজরি) তার রচিত ‘তারিখু দিমাশক’ গ্রন্থে নামের ধারাবাহিকতা অনুসারে জীবনী এনেছেন। খতিব বাগদাদি (মৃ-৪৬৩ হিজরি) লিখিত ‘তারিখু মাদিনাতিস সালাম’ বা তারিখে বাগদাদ গ্রন্থেও এই ধারা অনুসরণ করা হয়েছে।

কখনো শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ব্যক্তিদের জীবনীও সংকলন করা হয়েছে। আবুল হাসান নাবাহি আন্দালুসি (মৃ-৬৯২ হিজরি) তার লিখিত ‘তারিখু কুজাতিল আন্দালুস’ গ্রন্থে আন্দালুসের কাজিদের জীবনী এনেছেন। কাজি আতহার মোবারকপুরী (মৃ-১৪১৭ হিজরি) রচিত ‘রিজালুস সিন্ধ ওয়াল হিন্দ’ গ্রন্থে ভারতবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের জীবনী এসেছে। আবদুল হাই হাসানি নদভী (মৃ-১৩৪১ হিজরি) লিখিত ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’ গ্রন্থে ভারতবর্ষের শাসক, আলেম, মন্ত্রী, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, কবি ইত্যাদী নানা শ্রেনীপেশার মানুষের জীবনী এসেছে।

জীবনীর উপর দেয়া হত স্বতন্ত্র দরস

জীবনীশাস্ত্র নিয়ে বইপত্র রচনার পাশাপাশি জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র দরস দেয়ার ব্যবস্থাও চালু ছিল। এ ধরণের দরস দু ধরণের হত। কখনো শিক্ষক পূর্বসূরী কারো জীবনী নিয়ে আলোচনা করতেন। আবার কখনো শিক্ষক কারো জীবনী লিখে সেই লিখিত বইয়ের উপর দরস দিতেন। আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হারিসি (মৃ-৩৪০ হিজরি) একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন ইমাম আবু হানিফার জীবনী নিয়ে। তিনি তার ছাত্রদের সামনে সেই বইটির পাঠদান করতেন। বইটির নাম ‘কাশফুল আসারিশ শারিফা ফি মানাকিবি আবি হানিফা’।

মুসলমানদের জীবনী-সাহিত্য যে কারণে অনন্য

জীবনী-সাহিত্যে মুসলমানদের আগ্রহের প্রধান কারণটি ছিল ধর্মীয়। নবিজির ইন্তেকালের পর যতই সময় গড়াচ্ছিল, ততই নবিজির হাদিসগুলোর বর্ননাকারীর সংখ্যা দীর্ঘ হচ্ছিল। এ সময় আবশ্যক ছিল হাদিসের বর্ননাকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত ও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করা, কারণ নবিজি তার নামে মিথ্যা হাদিস বর্ননার ক্ষেত্রে জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছিলেন। কোরআনুল কারিমেও ফাসেকদের কাছ থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আদেশ দেয়া হয়েছে। এজন্য বর্ননাকারীদের জীবনী জানার বিকল্প ছিল না। ইবনু সিরিন, স্বপ্নের ব্যখ্যা দিয়ে ইতিহাসে বিখ্যাত, তিনি বলেছিলেন, এই ইলম দ্বীনের অংশ। সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে ইলম অর্জন করছো তা খেয়াল করো। নবিজির হাদিসগুলোকে বিশুদ্ধরুপে সংগ্রহ করার জন্যেই মুসলমানরা সমৃদ্ধ জীবনী-সাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। মুসলমানদের জন্য এটা গৌরবের বিষয় যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসগুলোকে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণ করার জন্য তারা ‘ইলমুর রিজাল’ নামে এক সুবিশাল শাস্ত্রের গোড়াপত্তন করে। তারা সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। ইমাম ওয়াকেদি (মৃ-২০৭ হিজরি) খলিফা মামুনের সময় বাগদাদের একটি অঞ্চলের বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি নিজের অবস্থা ব্যক্ত করেছেন এভাবে, ‘আমি কোনো সাহাবীর পুত্র, শহীদ পুত্র বা তাদের চাকরকে পেলেই জিজ্ঞেস করেছি, তিনি কোথায় শহিদ হয়েছেন এবং কোথায় তার কবর। তার সম্পর্কে সামান্য তথ্য পেলেও আমি তার সুত্র ধরে সেখানে উপস্থিত হয়েছি, ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছি। তথ্য সংগ্রহ করেছি। এভাবে ইমাম ওয়াকেদি জীবনি সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ইমাম ওয়াকেদি একা নন, এই ধারায় তার সঙ্গী হয়েছিলেন অন্যরাও। তারা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন এলাকা সফর করছিলেন, লিখিত বইপত্র সন্ধান করছিলেন, সেগুলো পর্যালোচনা করছিলেন এবং তথ্য লিপিবদ্ধ করছিলেন।

মুসলমানরা জীবনী-চর্চার সময় খুবই সতর্ক থেকেছেন, তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির মানবিক গুনাবলী ও সমস্যাগুলিও নিপুনভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা সেসব উল্লেখ করে দিয়েছেন জীবনীগ্রন্থ সমূহে। ফলে জীবনী শাস্ত্রের পাতা উল্টালে সহজেই জানা যাচ্ছে কার স্মৃতিশক্তি দূর্বল ছিল, কে মিথ্যুক ছিলেন, কে জাল হাদিস বর্ননা করতেন, কে প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। জীবনীচর্চার সময় তারা প্রায়ই নির্মোহ বিশ্লেষণ করতেন, এমনকি আপনজনের ক্ষেত্রেও তারা কোনো আবেগ ছাড়াই সঠিক অবস্থাটি জানিয়ে দিতেন। ফলে তারা যে জীবনি-সাহিত্য চর্চা করেছেন, তা কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি ব্যতিত প্রকৃত চিত্রটিই আমাদের সামনে উপস্থিত করে।