
বিশেষ প্রতিবেদক
ফরিদপুরের ‘ভণ্ডপীর’ আটরশির দরবারে নেতৃত্ব নিয়ে চলতে থাকা আভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার জনসমক্ষে চলে এসেছে। আটরশির দুই ছেলে খাজা মাহফুজুল হক ও খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল এ বিরোধ।
মোস্তফা আমীর ফয়সল আটরশি পীরের জাকের মঞ্জিল ভিত্তিক দল জাকের পার্টির চেয়ারম্যান। ফয়সালের ছেলে ড. সায়েম আমীর ফয়সাল ভাইস চেয়ারম্যান। সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করা একটি স্ট্যাটাসে ড. সায়েম এ বিরোধটা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন।
তার স্ট্যাটাস থেকে বোঝা যায়, আটরশি পীরের ছেলে খাজা মাহফুজের অনুসারীরা তাদেরকে আটরশি মাজারের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করছে। তাদের পক্ষের নারী-পুরুষ ভক্তকেও হেনস্থা করছে। তবে প্রতিপক্ষের নামধাম তিনি উল্লেখ করেননি।
তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ আজ ষড়যন্ত্রের শিকার এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি। এমনকি, তারা বিশ্বওলীর পবিত্র রক্তধারা ও তিনার জেসমানী আওলাদের অসম্মান, অপমান, লাঞ্ছিত করতেও পিছপা হয় নাই। পাশাপাশি স্থানীয় পেটোয়া বাহিনী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক গুন্ডাদের ছত্রছায়ায় নির্লজ্জভাবে বিশ্বজাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশন, জাকের পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনসমুহ বিশেষ করে জাকের পার্টি মহিলা ও ছাত্রীফ্রন্টের সম্মানিতা মা-বোন-সদস্যা-নেত্রীদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে সারা বিশ্বের জাকেরানদের আধ্যাত্মিক রাজধানী বিশ্ব জাকের মঞ্জিল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।’
তার বাবা খাজা ফয়সলই আটরশি দরবারের সর্বেসর্বা ও প্রকৃত হকদার এটা বুঝিয়ে তিনি লিখেন, ‘বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী। সাজানো বাগানে কিন্তু হুট করে যে কেউ বসে যেতে পারে। (সুতরাং সাবধান!)’
এসব কারণে তিনি খেদ ঝেড়ে অনেকটা হুমকি দিয়ে নিজেদের পক্ষের ভক্তকুলকে আহ্বান করেন তা প্রতিহত করার। এছাড়া আটরশির আস্তানায় অনুমতি ছাড়া তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন আটরশির নাতি ড. সায়েম।
এ বিষয়ে মাহফুজুল হকের পক্ষে থাকা আটরশি মাজারের খাদেম বাকু মল্লিক বলেন, ‘তারা নেতৃত্বের পাওয়ার জন্য এমন মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছেন। দরবারের কিছু নিয়ম আছে, সেই নিয়ম তারা মানতে চান না। নেতৃত্বের অংশীদার তারা, সর্বেসর্বা নন। নেতৃত্ব নিতে হলে নিয়ম মেনে নিতে হয়। অযথা মিথ্যা কথা ছড়িয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছেন।’
তবে জাকের পার্টির প্রেস সচিব শামীম হায়দার ড. সায়েমের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘দরবারের ভেতরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ অবস্থান নিয়েছে। তারা অনেক নারী কর্মী ও মুরিদানদের উপর হামলা করে বের করে দিয়েছে। সেখানে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘আগে লাখ লাখ মানুষ আসতেন। আশেপাশের এলাকায় ভিড় পড়ে যেতো। এবার সেখানে বেশি হলে ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে।’
