
আবুধাবি থেকে শুভলগ্ন:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের এক অনুপম প্রতীক আবুধাবির ঐতিহাসিক শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসল্লি, দর্শনার্থী ও সাংস্কৃতিক অনুরাগীদের মন জয় করে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
ফাতেহ২৪-এর পাঠকদের জন্য শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ সেন্টারের সাম্প্রতিক আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অর্জন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন—
🕌 আধ্যাত্মিক আবহ ও মুসল্লিদের সমাগম
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৬০৭ জন এই বিশাল মসজিদ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
- মোট মুসল্লি ও ইফতারে অংশগ্রহণকারী: ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৩০৫ জন।
- জুমার নামাজে উপস্থিতি: ৯৮ হাজার ৪৬৯ জন।
- দৈনিক নিয়মিত নামাজ: ২ লাখ ২৯ হাজার ১৩৯ জন।
- রমজান ও ঈদুল ফিতর: মোট ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।
- ২৭তম রাতের ইতিহাস: শবে কদরের রাতে সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার ৯০২ জন সমবেত হন, যার মধ্যে ৮,০৫৬ জন তারাবি এবং ৪৫,৮৪৬ জন তাহাজ্জুদের নামাজে শরিক হন।
- ঈদুল আজহা: ঈদের ছুটিতে ৯৬,৫৬৫ জন অতিথির আগমন ঘটে, যার মধ্যে ২৩,৬৪১ জন ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
মানবকল্যাণে অনন্য দৃষ্টান্ত: ইফতার প্রকল্প
মসজিদ সেন্টারের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘আওয়ার ফাস্টিং গেস্টস’-এর মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসে রেকর্ড ২৬ লাখ ৫ হাজার ৮১০টি ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।
যায়েদ হিউম্যানিটারিয়ান লিগ্যাসি ফাউন্ডেশন ও আর্থ হোটেলের সমন্বয়ে এই সুবিশাল মানবিক উদ্যোগ পরিচালিত হয়:
- শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ (আবুধাবি): ৯,৮০,০১০টি ইফতার।
- শেখ খলিফা গ্র্যান্ড মসজিদ (আল আইন): ৫,৫০,২৪০টি ইফতার।
- শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ (ফুজাইরাহ): ২,৬৫,৫৬০টি ইফতার।
বিশ্বমানের পর্যটন ও বৈশ্বিক মেলবন্ধন
চলতি বছরের প্রথম অর্ধে ১২ লাখ ৪১ হাজার ৮০৮ জন বিদেশি দর্শনার্থী মসজিদটি পরিদর্শন করেন। এছাড়া ৪৪,৪৯৪ জন অতিথি ব্যবহার করেছেন এর স্পোর্টস ওয়াকওয়ে।
মহাদেশভিত্তিক দর্শনার্থী সংমিশ্রণ
- এশিয়া: ৫২% (সর্বোচ্চ)
- ইউরোপ: ৩১%
- উত্তর আমেরিকা: ১০%
- আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা: ৩% করে
- অস্ট্রেলিয়া: ১%
[দর্শনার্থীর উৎস দেশ]
ভারত (২১%) ➔ চীন (১০%) ➔ রাশিয়া (৮%) ➔ যুক্তরাষ্ট্র (৭%) ➔ জার্মানি (৪%)
(এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে ৩% করে)
মসজিদের সংস্কৃতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এ সময়ে ১,০১৬টি গাইডেড ট্যুর পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের ৪০৩টি সরকারি দল অভ্যর্থনা জানান।
জ্ঞান, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব মেলবন্ধন
ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি ১০টিরও বেশি উচ্চমার্গের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে কেন্দ্রটি:
- ‘জুসুর’ কর্মসূচি (ষষ্ঠ মৌসুম): অমুসলিম ও বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে রমজানের মাহাত্ম্য তুলে ধরার বিশেষ অভিজ্ঞতা।
- পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী: ইউএই ইউনিভার্সিটির সাথে যৌথভাবে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও মানব ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘ম্যানুস্ক্রিপ্টস: আইডেন্টিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ আয়োজন।
- লাইটিং ও ইমার্সিভ এক্সপেরিয়েন্স: ‘লাইট অ্যান্ড পিস মিউজিয়াম’ এবং ‘দিয়া: এ ওয়ার্ল্ড অব লাইট’-এর মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি প্রজেকশন, আলো ও শব্দের জাদুময় সমন্বয়ে মানবিক ঐতিহ্য উপস্থাপন।
- অন্যান্য উদ্যোগ: মুসলিম মনীষীদের অবদান তুলে ধরতে ‘কন্ট্রিবিউশনস অব মুসলিম স্কলার্স’ এবং বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ‘দিয়া’ ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ কেবল ইটের তৈরি কোনো গ্র্যান্ড মসজিদ নয়; বরং এটি ইসলামি স্থাপত্যের পরম মহিমা, সর্বজনীন মূল্যবোধ এবং বিশ্বশান্তির এক দীপ্ত প্রতীক।
