প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে ঢাকার কঠিন শর্ত

জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক চাওয়ার কথা বলেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সফরের আগে ঢাকা কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব শর্তকে কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লিকে পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ায় সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছেন। এ সফরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে ঢাকার সরকারি সূত্র। বাংলাদেশ এখন এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় সফর—দুই ক্ষেত্রেই তারেক রহমানকে দেওয়া আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। তবে সফরের সময় নির্ধারণ এখন ঢাকার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এর আগে ২১ আগস্টকে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করেছিল নয়াদিল্লি। অন্যদিকে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনে অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি এখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ঢাকার অনেকেই এটিকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবে দেখছেন।

শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ভারত সরকার অবশ্য জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। তাঁর বক্তব্যকেও ভারত সরকার সমর্থন করেনি।

এ অবস্থায় দুই দেশই উত্তেজনা কমিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে। তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে সফরের আগে প্রত্যর্পণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফাতেহ২৪ ডেস্ক

আগের সংবাদআবুধাবির ঐতিহাসিক শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
পরবর্তি সংবাদঅনলাইন লেনদেনে ওটিপি সতর্কতার পাশাপাশি সনদের তথ্যে জন্মনিবন্ধন-NID বাধ্যতামূলক করল বেফাক