পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা ও গভীর ষড়যন্ত্র: আলেমদের সতর্কবার্তা

ফাতেহ ডেস্ক:

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে খ্রিষ্টান মিশনারিদের অবাধ বিচরণ ও ধর্মান্তরকরণ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিজ্ঞ আলেম সমাজ। অর্থনৈতিক প্রলোভন ও সেবার আড়ালে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে।

পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের মতো চক্রান্ত:

আলেম ও গবেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার ‘পূর্ব তিমুর’ এবং ‘দক্ষিণ সুদান’-এর মতো পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানানোর আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন দাওয়াতি কাজ করা আলেম মুফতি আব্দুল মাজিদ জানান, সেনাদপ্তর থেকেও পূর্বে এ ধরনের চক্রান্তের কথা জানানো হয়েছিল। দেশের আনাচে-কানাচে থাকা খ্রিষ্টানদের পার্বত্য অঞ্চলে এনে সংখ্যাগুরু বানানো হচ্ছে, যেন ভবিষ্যতে গণভোটের ক্ষেত্র তৈরি করা যায়।

মিশনারি ও এনজিওদের প্রভাব:

  • অপ্রতিরুদ্ধ বিচরণ: পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় একসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বেশি থাকলেও আর্থিক প্রলোভনে তা দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

  • গির্জার সংখ্যা বৃদ্ধি: সরকারি ও আলেমদের দেওয়া তথ্যমতে, পার্বত্য তিন জেলায় (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি) গির্জার সংখ্যা শত ছাড়িয়ে গেছে। খাগড়াছড়িতে ৭৩টি এবং বান্দরবানে ১১৭টিরও বেশি গির্জা রয়েছে।

  • এনজিওর আড়ালে ধর্মান্তর: চিকিৎসাসেবা ও মানবিক উন্নয়নের নামে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট একাধিক এনজিও মূলত পাহাড়িদের ধর্মান্তরিত করার কাজ চালাচ্ছে। গত দুই দশকে হাজার হাজার পরিবারকে খ্রিষ্টান বানানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

জরুরি করণীয় ও প্রতিরোধ:

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে আলেম সমাজ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন:

১. দ্বীনি দাওয়াত বৃদ্ধি: পার্বত্য অঞ্চলে ইসলামের সঠিক দাওয়াত পৌঁছাতে আলেম ও সাধারণ মুসলমানদের  কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ২. টাস্কফোর্স গঠন: পার্বত্য অঞ্চলে দাওয়াতি কাজ সুসংগঠিত করার জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। ৩. নব্য মুসলিমদের পুনর্বাসন: যারা প্রলোভন ত্যাগ করে বা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করছেন, তাদের থাকার জায়গা, শিক্ষা ও জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে মজবুত ফান্ড তৈরি করতে হবে। ৪. জাতীয় সচেতনতা: দেশের সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও আলেমদের এক হয়ে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আগের সংবাদওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবের নতুন নিয়ম, মানতে হবে যে শর্ত