ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের হামলার ১ বছর, কী ঘটেছিল সেদিন?

ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের হামলার ১ বছর, কী ঘটেছিল সেদিন?

বিশেষ প্রতিবেদক :

আজ পহেলা ডিসেম্বর। গত বছরের ঠিক এ দিনে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগের নিরীহ সাথি ও মাদরাসাছাত্রদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছিল তাবলিগ জামাতের বিতর্কিত আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা। হামলায় প্রায় তিন শতাধিক মাদরাসাছাত্র ও সাধারণ মুসল্লি আহত হয়েছিলেন, নিহত হয়েছিলেন ইসমাইল হোসেন (৭০)। নামের এক বৃদ্ধ তাবলিগি সাথি। তাঁর বাড়ি ছিল মুন্সিগঞ্জের নীলপাড়া এলাকায়।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের দিন ধার্য হয়েছিল। সে উপলক্ষে ৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টঙ্গী ময়দানে তাবলিগ জামাতের নিয়মতান্ত্রিক জোড় অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। আসন্ন ইজতেমা এবং জোড়কে সামনে রেখে শুরাপন্থী তাবলিগি সাথি এবং বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-উসতাদরা ১ ডিসেম্বরের আগ থেকে ময়দান প্রস্তুত করার নিমিত্তে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

সাদপন্থীরা এটা মেনে নিতে পারেনি। মাঠে অবস্থানরত তাবলিগি সাথি মুনাইম বিল্লাহ সেসময় ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে জানিয়েছিলেন, সাদপন্থীরা (১ ডিসেম্বর) সকালে লাঠিসোটা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঠের বাইরে অবস্থান গ্রহণ করে। সকাল ১১ ঘটিকার সময় হঠাৎই তারা মাঠের গেট ভেঙে অতর্কিত হামলা চালায় মাঠে অবস্থানরত সাথিদের ওপর।

তাবলিগের সাথি, মুরব্বি ও ছাত্রদের বেধড়ক পেটাতে থাকে তারা। ছাত্ররা ছিল অপ্রস্তত। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিল তারা। এমন সময় হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই সেসময় ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগের টার্গেট ছিল মাদরাসার ছাত্ররা। নিরীহ এসব ছাত্রকে দেখে লাঠি হাতে দৌড়ে আসে হামলাকারীরা।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পারভেজ হোসেন সেসময় বলেছিলেন, রক্তের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে হাসপাতাল। প্রচুর পরিমাণে মুসল্লি আহত হয়ে হাসপাতালে আসছে। আমরা সবাই মিলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।

হামলায় আহত হয়েছিলেন সাধারণ মুসল্লিসহ তিন শতাধিক মাদরাসাছাত্র। কিন্তু এ পর্যন্ত এ হামলার কোনো বিচার হয়নি কোথাও।

আগের সংবাদইসলামি কমনওয়েলথ, বেন নাবী থেকে মাহাথির মুহাম্মদ
পরবর্তি সংবাদদুই সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ খুলনার ফুলবাড়িগেট মাদরাসার ছাত্র সাব্বির