
ফাতেহ ডেস্ক
দেশে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ ছড়ানো এবং গণতন্ত্র ও দেশীয় সংস্কৃতি-বিরোধী বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ এনে হকপন্থী আলেমসহ ১৫জন বক্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে এ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে উল্লেখিত আলেমদের বিভিন্ন বয়ানের কারণে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রেডিক্যালাইজড হয়ে উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
যে ১৫ জন বক্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁরা হলেন আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসূফ (সালাফি), মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান (মুহতামিম, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর), আল্লামা মামুনুল হক (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মুফতি ইলিয়াছুর রহমান জিহাদী (প্রিন্সিপাল, বাইতুল রসূল ক্যাডেট মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ক্যান্টনমেন্ট), মুফতি ফয়জুল করিম (জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন), মুজাফফর বিন বিন মুহসিন, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন (যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট), মতিউর রহমান মাদানী, মাওলানা আমীর হামজা, মাওলানা সিফাত হাসান, দেওয়ানবাগী পীর, মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, হাফেজ মাওলানা ফয়সাল আহমদ হেলাল, মোহাম্মদ রাক্বিব ইবনে সিরাজ।
অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনের ভাষ্য মতে এসব বক্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হবার পর ধর্মপ্রাণ মানুষ হতাশ হয়েছেন এমন তালিকাভুক্তিতে। একই সঙ্গে বিরক্তি ও ক্ষোভও দেখিয়েছেন তারা।
যে অভিযোগ আনা হয়েছে ১৫ বক্তার বিরুদ্ধে, এর সঙ্গে অভিযুক্তদের অধিকাংশরই কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে কেউ কেউ বলছেন, বাস্তবিক পক্ষে ধর্মবিদ্বেষ ও উগ্রতা যারা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, হেজবুত তাওহিদের হোসাইন মুহাম্মদ সেলিমের মতো লোকেরা, তাদেরকে কেন তালিকাভুক্ত করা হলো না, তা বিস্ময়ের ব্যাপার।
এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সরকারি কয়েকটি দফতরকে প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগের পরিচালক নূর মোহাম্মদ আলম। তিনি অনলাইন পোর্টালটিকে বলেন, ‘আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষকদের সঙ্গে কথা বলছি। এ ব্যাপারে কী করা যায়, বক্তাদের ডাকবো নাকি তাদের চিঠি দেবো; এসব বিষয় সভায় ঠিক হবে। এরপর আমরা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবো।’
