
ফাতেহ ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে দায়ী করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, ‘মসজিদ কমিটির কাছে তিতাস ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। না পেয়ে তারা কাজটি করেনি। অবহেলা না হলে হয়তো এত বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো না।’ দায়ীদের আইনের আওতায় না আনা হলে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন নেতারা।
গতকাল রবিবার দুপুরে তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিল সবসময় পরিশোধ করে আসছি। তাহলে সেবায় গাফিলতি থাকবে কেন? তিতাসের যদি ভুল থাকে, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
বেলা ১১টায় শহরের চাষাঢ়া এলাকায় তিতাস গ্যাসের অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ সভা করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন নামে একটি সংগঠন। ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাস কোম্পানির গাফিলতি প্রমাণিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
জেলা বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাস বলেন, ‘মসজিদ কমিটির লোকজন বলেছে, তিতাস ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। না পেয়ে কাজটি করেনি। এই অবহেলায় বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলো। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তিতাস গ্যাসের সম্পর্কে শুধু আলোচনা হবে, পরীক্ষা হবে এই সমস্ত আজগুবি কথা না বলে এটার ৭ দিনের মধ্যে একটা বিচার হওয়া উচিত।’
গতকাল বিকেলে তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদ পরিদর্শন করেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে এখানে বিদ্যুৎ বিভাগ, গ্যাস বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আমি জোরালো দাবি জানাব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’ এ সময় তিনি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি দাঁড়াবে বলে সাংবাদিকদের জানান।
এ ব্যাপারে তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মেম্বার বলেন, শেষ কয়েক দিন গ্যাস বের হচ্ছিল অনেক বেশি। তিতাসকে বাড়তি কিছু অর্থ দিতেও রাজি ছিলাম। তবে অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়াতে তা আর সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস অফিসে যোগাযোগ করেছিলেন সেক্রেটারি আবদুল মান্নান। তিনিই আমাদের জানিয়েছিলেন গ্যাস অফিস ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে। তিনি এখন অগ্নিদগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে আছেন। কে টাকা চেয়েছে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সেক্রেটারি বলতে পারবেন।
ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন বলেন, গ্যাসের লিকেজ থেকে মসজিদে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের ভেতরে গ্যাস ভরে থাকায় বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ থেকে মুহূর্তে এই বিস্ফোরণ হয়েছে। এখানে এসি থেকে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
