ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের সংবিধান : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন

ফাতেহ ডেস্ক

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩ দিনবাপী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিবসে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য একটি স্থান। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম অবাধে সম্পাদন করছেন এবং বাংলাদেশের সংবিধান সে অধিকার নিশ্চিত করেছে।’

বাংলাদেশের মন্ত্রী এ সমাবেশে আরো বলেছেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও সব সময় সকল ধর্মবিশ্বাসী মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা সে পথেই হাঁটছেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়-বিচার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সকল ধর্ম এবং জাতি-বিশ্বাসের মানুষ কোন ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়া নিরাপদে মর্যাদার সাথে জীবন-যাপন করতে সক্ষম হয়। এমন একটি পরিবেশ তৈরীর জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক এই উদ্যোগের অংশিদার হতে পেরে বাংলাদেশও গৌরববোধ করছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

এ সম্মেলনে মিয়ানমার প্রসঙ্গে গৃহিত এক রেজ্যুলেশনে বলা হয়েছে, আগামী বছর মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। সে নির্বাচনে সকল ধর্ম/সম্প্রদায়ের মানুষের অবাধ অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। এজন্যে প্রয়োজনীয় সংলাপের কথাও বলা হয়েছে। এ সংলাপে থাকবে সম্ভাব্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো। ধর্ম বা গোত্র বিবেচনায় নয়, বার্মার নাগরিক হিসেবে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমান নিধনের জন্যে বা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্যে দায়ীদের চিহ্নিত এবং শাস্তি প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেই দেশত্যাগী রোহিঙ্গারা নিজ বসতভিটায় ফিরতে আগ্রহী হবে বলেও মন্তব্য করা হয় এ সম্মেলনে।

সম্মেলনে গণচীনে মুসলিম-বিদ্বেষমূলক আচরণেরও নিন্দা জানানো হয় এবং ধর্মবিশ্বাসী সকলের অধিকার সমুন্নত রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান উচ্চারিত হয়।

উল্লেখ্য, ৪০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১০৬ দেশের নীতি-নির্ধারক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ, মসজিদ-মন্দির-গীর্জার কর্ণধার, লেখক-মানবাধিকার কর্মীরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। এটি ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর আহ্বানে ধর্মীয় সম্প্রীতি জাগ্রত রাখতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ ব্রাউনব্যাকসহ পদস্থ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

আগের সংবাদহাম্মাদ তাহমীমের সমকালীন একগুচ্ছ ছড়া
পরবর্তি সংবাদহুমায়ূন আহমেদ : নবিজিকে স্বপ্নে দেখার স্বপ্ন