
ফাতেহ ডেস্ক:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যে প্রস্তাব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান সংসদে উত্থাপন করেছিলেন, তা সংসদে গৃহীত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ গত ৯ নভেম্বর বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে স্মারক ভাষণ দেন। এর পর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। এর পর প্রস্তাবটির ওপর সংসদ সদস্যরা ৫ কার্যদিবস আলোচনা করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি এবং বাঙালির অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার সারা জীবন বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সংগ্রাম করেছেন। সহ্য করেছেন জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন। তবুও অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি।
এতে বলা হয়, ১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা, ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন- দীর্ঘ এই ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্র কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত প্রস্তাবে আরো বলা হয়, ‘বাংলার নিরস্ত্র জনগণ বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দূর্গ গড়ে তুলেছিল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মহান শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে জায়গা করে নেয়। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, লাল সবুজের পতাকা ও সংবিধান। বিশ্বসভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বিত জাতিরূপে মাথা উঁচু করে চলার ক্ষেত্র রচনা করে গেছেন বঙ্গবন্ধু।
স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পেয়েছিলেন তিনি। দেশকে গড়ার জন্য মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই অল্প সময়েই তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করে দেন। ২০২০ সালে জন্মশত বার্ষিকীতে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক এবং কর্মময় জীবন ও দর্শনের ওপর জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হউক।’
