
মুসান্না মেহবুব
মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী কর্তৃক নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি স্থানীয় জনগণের বিরক্তি ও বিদ্বেষ বাড়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দা বড় একটা শ্রেণিরও বিদ্বেষ ও বিরক্তি তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের রোহিঙ্গা বিষয়ক নিউজের কমেন্ট বক্সে তাঁরা রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে নানা রকমের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করছেন।
সোহেল মোল্লা নামক এক তরুণ এমনই একটি নিউজের মন্তব্যে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সুন্দর প্রকৃতিকে নষ্ট করছে এরা, এদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পুনরায় মিয়ানমারে পাঠানো উচিত। তাদের দেশের সরকার তাদেরকে মারছে, তাতে আমাদের কী, আমরা কেন আশ্রয় দেবো?’
শফিক পাটোয়ারী নামক আরেকজন খেপেছেন বাংলাদেশ সরকারের ওপর। সরকার কেন তাদেরকে আশ্রয় দিলো! একই নিউজের কমেন্টবক্সে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ এম্নিতেই বহুল জনসংখ্যার ভারে কাবু, তার ওপর এই ‘অশিক্ষিত মূর্খ রোহিঙ্গাদে’র আশ্রয় দিয়েছে আমাদের মাথামোটা সরকার, যারা বছরে তিনটা করে বাচ্চা ফোটায়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চরম নিষ্পেষণের শিকার হয়ে সহায়-সম্বল সব ফেলে রেখে যখন এই মুসলিম জনগোষ্ঠী বানের জলের মতো বাংলাদেশে ঢুকে আশ্রয় নিচ্ছিল, তখন পুরো দেশ থেকেই মানবিকতার তাগিদে তাদের সাহায্যে ছুটে গিয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের মধ্যে ওলামায়ে কেরামের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সেই সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি পুরো দেশেই বিরাজ করছিল এক ধরনের সহমর্মিতা।
কিন্তু বছর দুই পরে এখন সেই সহমর্মিতার অনেকখানিই বিদ্বেষ ও বিরক্তিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের বড় একটি অংশ বলছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে তাঁদের সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। এরা নানা প্রকারের অপরাধ এবং উশৃংখলতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন : কেমন আছেন রোহিঙ্গারা?
উখিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় বনভূমি, পাহাড়, জলাধার, রাস্তাঘাট, প্রাকৃতিক পরিবেশ এমনকি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের পরিবেশও ধ্বংস হবার জোগাড়।
রোহিঙ্গাদেরকে তাদের জন্য বাড়তি চাপ বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। এই বিরক্তি থেকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নানা ঝগড়া বিবাদেও লিপ্ত হচ্ছেন তাঁরা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ সহায়তায় নিয়মিত কাজ করেন, এমন কয়েকজন আলেম সমাজসেবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আসলেই ব্যত্যয় ঘটছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে উশৃংখলতাও আছে প্রচুর পরিমাণে। ধর্মের প্রতি অধিকাংশ রোহিঙ্গা যদিও আগ্রহী, কিন্তু ধর্ম ও নৈতিক জ্ঞান সম্বন্ধে তাদের সিংহভাগ সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকার কারণে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেবাপ্রদানকারী এ আলেমগণ বলছেন, যেহেতু রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আপাত কোনো সম্ভাবনা নেই, দীর্ঘ একটা সময় তাদের এখানে থাকতে হবে, তাই তাদের মধ্যে ধর্ম ও নৈতিকতার পাঠ বিস্তারের জন্য ওলামায়ে কেরামকে ব্যাপকভাবে সেখানে দাওয়াতি কাজ করতে হবে। দাওয়াতি কাজের মাধ্যমেই কেবল তাদের উশৃংখলতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন : রমজানে কেমন আছেন রোহিঙ্গারা?
