
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের লখনৌয়ে হিন্দু সমাজ পার্টির নেতা কমলেশ তিওয়ারিকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কোনো মুসলিম নয় বরং এক বিজেপি নেতাকেই কাঠগড়ায় তুলতে চাচ্ছে কমলেশ তিওয়ারির পরিবার। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।
কমলেশ তিওয়ারির পরিবারের দাবি, হিন্দুনেতার খুনে হাত রয়েছে বিজেপির এক নেতার। শিবকুমার গুপ্তা নামে বিজেপির ওই নেতাকে যাতে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়, পুলিশের কাছে সেই আর্জি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তারা প্রকাশ্যেই দাবি করেন, কমলেশ খুনের জন্য শিবকুমার দায়ী
এর আগে শুক্রবার এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মৌলনা শেখ সেলিম, ফৈজান ও রশিদ পাঠান নামে তিনজনকে গুজরাট পুলিশ সুরাট থেকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বিজনৌর থেকে আরও দুই মৌলবি গ্রেফতার হয়েছেন। যোগীরাজ্যের পুলিশ এই ছয়জনকে গ্রেফতারের পর দাবি করে, হিন্দুনেতার খুনের কিনারা তারা করে ফেলেছে। ২০১৫ সালে হজরত মোহাম্মদকে নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন কমলেশ তিওয়ারি। সেই ঘটনার জেরেই তাকে খুন করা হয়।
আরেকটু আগ বাড়িয়ে হিন্দু মহাসভার সাবেক নেতা কমলেশ তিওয়ারির খুনিদের কেউ মাথা কাটতে পারলে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই ব্যক্তিকে ১ কোটি রুপি পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেন অরুণ পাঠক নামে শিবসেনার এক নেতা। তিনি বলেন, ‘কমলশে তিওয়ারিকে যারা নৃশংসভাবে খুন করল, আমি বিশ্বাস করি, তাদের বিচারে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত নয়। একই কায়দায় ওই খুনিদেরও ধড়-মাথা বিচ্ছিন্ন করে মারা উচিত। যে ব্যক্তি কমলেশের খুনিদের মাথা কাটতে পারবে, আমি তার পরিবারকে ১ কোটি রুপি দেব। আমি কমলেশ তিওয়ারি এই পুরস্কার ঘোষণা করছি।’
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, কমলেশকে ১৩ বার কোপানো হয়েছে। কমলেশের মুখের ভিতরে গুলি করা হয়। সেই গুলি তার পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়।
পুলিশের এই ভূমিকায় সন্তুষ্ট নয় কমলেশ তিওয়ারির পরিবার। শিবকুমার গুপ্তা নামে বিজেপির ওই নেতাকে যাতে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়, পুলিশের কাছে সেই আর্জি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে আসেন তিওয়ারি। তার মন্তব্যের ফলে দেশজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়, এবং ব্যাপক প্রতিবাদ আসে একাধিক মহল থেকে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ‘ক’ (ধর্মের ভিত্তিতে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা এবং শান্তি বিঘ্নিত করা), এবং ২৯৫ ‘ক’ (ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা বা ধর্মকে অপমান করা) ধারায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। এর পরে জাতীয় সুরক্ষা আইনের আওতায় গ্রেফতারও করা হয় তিওয়ারিকে, যদিও ২০১৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ বাতিল করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ।
