রোহিঙ্গা পাচারে সক্রিয় পাচারচক্র, কমছে না কোনভাবেই

Rohingya refugee children wade through flood waters surrounding their families' shelters following an intense pre-monsoon wind and rain storm in Shamlapur Makeshift Settlement, Cox's Bazar district, Bangladesh on 20 May 2018.Since an outbreak of violence began on 25 August 2017, approximately two thirds of a million Rohingya people have sought refuge in neighboring Bangladesh. More than half of them are children. UNICEF and partners are working to provide for the needs of this enormous refugee population who will be all the more vulnerable during the upcoming rainy season.

ফাতেহ ডেস্ক

উখিয়া-টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গাদের পাচারে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। দেশের বিভিন্ন স্থানেও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে পাচারকারী চক্রটি। এরই মধ্যে ক্যাম্প থেকে পালিয়েছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই রোহিঙ্গাদের আটক করা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে সাগরপথে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। সরকারি-বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার থাকার কথা। কিন্তু বিভিন্ন তথ্যমতে এসব ক্যাম্প থেকে ১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে সটকে পড়েছে।

এ বিষয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গা পাচারের সঙ্গে রোহিঙ্গারাও জড়িত। তাদের নৌকা ও মাঝি আছে, আমাদের দেশিয় লোকজন এর সঙ্গে জড়িত আছে। তারা সমন্বয় করে মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাচ্ছে।’

মানব পাচারে জড়িত রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা। তাদের নেটওয়ার্ক দেশের সীমানা পেরিয়ে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তার করেছে।অসচ্ছল ও বেকার যুবকদের স্বপ্ন দেখিয়ে নগদ ১০-২০ হাজার ও বাকিতে দেড়-দুই লাখ টাকায় মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার শর্তে সহজেই ফাঁদে ফেলছে পাচারকারীরা।

কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ‘পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সাগরে ঘুরিয়ে কক্সবাজারের উত্তরপাশে নামিয়ে দিয়ে বলে মালয়েশিয়া পৌঁছে গেছি। নামিয়ে দেয়ার আগে টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়া হয়।’ এই চক্রের সঙ্গে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় একটি গোষ্ঠী জড়িত বলেও জানান তিনি।

ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে আসা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে, জানান পুলিশ সুপার। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা কঠোর অবস্থানে আছি, যখনই তাদের ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার খবর পাই তখনই তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করি। এছাড়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান যেটা আছে সেটা অব্যাহত থাকবে।’

রোহিঙ্গারা সাগরপথে বাংলাদেশি জলসীমা ছেড়ে কোন গন্তব্যে পৌঁছেছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে, ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের।

আগের সংবাদযশোরে ছেলে মেয়েকে বিষ খাইয়ে মায়ের আত্মহত্যা
পরবর্তি সংবাদ‘বাংলাদেশ সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির দেশ’