আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের নেকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মিসরের সর্বোচ্চ আদালত। গত শনিবার (৪ জানুয়ারি) মিসরের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে মিসরসহ বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে কঠোর সমালোচনার ঝড়। খবর আল জাজিরার।
আদালতের যুক্তি, নেকাব শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক ও যোগাযোগের বিষয়টি সহজ ও ফলপ্রসূ হওয়ার অন্তরায়। তবে নেকাবের নিষেধাজ্ঞা শুধু শিক্ষিকাদের জন্য, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নয়।
নেকাব পরা নারী শিক্ষিকাদের আইনজীবী আহমাদ মেহরান বলেন, ‘ ‘কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ নারী ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেয়া নেকাব নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিলে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন। শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই রায় দেন। এ রায়ে সাধারণ জনগণের কোনো সমর্থন নেই। তার পরও জনসম্মতির বাইরে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালত কেন এই রায় দিয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই।’
আহমাদ মেহরান আরও বলেন, ‘আদালতের এ রায় বাস্তবায়ন সহজ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা আদালত বহাল রাখলেও শিক্ষিকারা নেকাব জড়িয়েই কাজ করে আসছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে তারা উন্নতি করেছেন। নেকাব পরা শিক্ষিকারাও আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন।
উল্লেখ্য, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য জাবির নেসার ২০১৩ সালের আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের নেকাব পরায় নিষেধাজ্ঞার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ইসলামপন্থী মুরসি সরকার ক্ষমতায় এলে কিছুটা পিছু হটেন জাবির নেসার। ২০১৩ সালে মুহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হলে এ উপাচার্য দুই বছরের মাথায় ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের নেকাব পরায় নিষেধাজ্ঞা আইন বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং প্রশাসনিকভাবে নেকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
