
ফাতেহ ডেস্ক
শ্রীলঙ্কায় রোববারের হামলা চালাতে যে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে তা বানানো হয় ওয়েল্লামপিতিয়া এলাকার একটি কপার কারখানায়। মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করে লঙ্কান পুলিশ। এ সময় কারখানার ম্যানেজারসহ ৯ জনকে আটক করা হয়। এর আগে কানদানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি আবাসিক ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ।
শ্রীলঙ্কার আট স্থানে রোববারের সিরিজ বোমা হামলায় ব্যবহার করা হয় মাদার অব স্যাটান বা শয়তানের মা খ্যাত অতিক্ষমতাসম্পন্ন বোমা। লঙ্কান পুলিশ বলছে, বোমাগুলো বানানো হয় রাজধানী কলম্বোর উপশহর ওয়েল্লামপিতিয়ার একটি কারখানায়। মঙ্গলবার কারখানাটির সন্ধান পায় পুলিশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কারখানার ভেতরে থাকা বোমা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামের মজুদ দেখা গেছে।
অভিযানের সময় কারখানার ম্যানেজারসহ নয়জনকে আটক করে পুলিশ। কারখানাটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের ১১ জন শ্রমিক কাজ করতো। তবে হামলা বা বোমা তৈরির সাথে কোনো সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন আটক বাংলাদেশি নাগরিক ২৫ বছরের মোহাম্মদ সারোয়ান।
লঙ্কান পুলিশ বলছে, হামলায় অংশ নেয়া আত্মঘাতী দলের অন্যতম সদস্য ইনসাফ আহমেদের বাবার কারখানা এটি। ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় নয় বরং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক থেকে অর্থের যোগান পেতো ইনসাফ।
শ্রীলঙ্কা সরকারও বলছে, বিদেশি গোষ্ঠীর সহায়তা ছাড়া গির্জা ও হোটেলে এমন ভয়াবহ হামলা সম্ভব নয়।
এদিকে,গোষ্ঠী ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত বা এনটিজে শ্রীলঙ্কায় আবারো হামলার পরিকল্পনা করছে বলে দেশটির সরকারকে সতর্ক করেছে ভারত। হামলার পরপরই কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার না করলেও মঙ্গলবার নিজস্ব ওয়েবসাইট আমাকে বিবৃতি দিয়ে শ্রীলঙ্কায় নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। বিবৃতির সাথে এ বিষয়ে কিছু ভিডিওও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
