জীবনমানের উন্নতির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

ফাতেহ ডেস্ক: ফ্রান্সে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জাতীয় ঐক্যির ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইদোয়াঁ ফিলিপ্পে। এসময় আবারো আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবারের দেশজুড়ে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ৩ পুলিশসহ আহত হয় ১২৬ জন। আটক প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী। সহিংসতা এড়াতে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৯০ হাজার সদস্য।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফ্রান্সে চার সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার বিক্ষোভকারী। এরমধ্যে কেবল প্যারিসেই জড়ো হয় আট হাজারের বেশি মানুষ। তাদের দমাতে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।

এক বাসিন্দা বলেন, আমরা সহিংসতার বিরুদ্ধে। টেলিভিশনে, গত সপ্তাহে ভয়াবহ সহিংসতা দেখেছি। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। সকালে আমরা চ্যাম্পস-এলিসিতে আসি। এখানে শুধু পুলিশ আর পুলিশ।)

অন্য এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে দেড়শ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে কেউ কেউ সহিংসতায় নিয়ে যাচ্ছে। এমনটা আমরা চাই না। তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তা কোনো ভাবে মেনে নেয়া যায়না।

প্যারিসসহ ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। কোথাও কোথাও সরকারি পরিবহনে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।

কেবল প্যারিসেই মোতায়েন করা হয় আট হাজার সদস্য ও ডজনখানেক সঁজোয়া যান। সহিংসতাকারীদের ছাড় দেয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে ফরাসি সরকার।

ফ্রান্সের উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ, ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্যারিসেও মোতায়েন রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভাকরীকে আটক করেছে পুলিশ।

অরাজকতা ও লুটপাটের শঙ্কায় বন্ধ রাখা হয় আইফেল টাওয়ার, ল্যুভ মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

প্রতিবাদের মুখে, জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছয় মাস স্থগিত করে সরকার। তবে বিক্ষোভকারী বলছেন, শুধু জ্বালানির দাম নয়, জীবনমানের উন্নতির দাবিতেই নতুন করে উস্কে উঠেছে এই বিক্ষোভ।

আগের সংবাদপ্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট রুহুল আমিনের
পরবর্তি সংবাদ‘একজন কমিশনারের দ্বিমত সত্ত্বেও বিভক্ত রায়ে আওয়ামী ইন্ধনে খালেদার মনোনয়ন বাতিল’