
রাগিব রব্বানি
গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা মাঠে সংঘটিত সাদপন্থী তাবলিগিদের হামলার পর আলেমদের করণীয় নির্ধারণে ১০ ডিসেম্বর আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষ আলেমদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায়। বৈঠকে ইজতেমা মাঠে হামলার পেছনে ইন্ধনদাতা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে এক সপ্তাহের ভেতর তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিসহ তাবলিগ বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য দেওয়া হয়েছিল এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম। এক সপ্তাহের ভেতর গ্রেপ্তার বা দোষীদের ব্যাপারে তদন্ত না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন উলামায়ে কেরাম।
আল্টিমেটামের আজ শেষ দিন। অভিযুক্তদের ব্যাপারে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, কোনো ধরনের তদন্ত কি তাদের ব্যাপারে শুরু হয়েছে? জানতে চেয়েছিলাম তাবলিগ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মুখপাত্র মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারির কাছে। ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে তিনি জানালেন, অভিযুক্তদের ব্যাপারে প্রশাসন তদন্ত করছে। উলামায়ে কেরামের সঙ্গেও চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। মুরব্বি উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে দু-এক দিনের মধ্যেই জানানো হবে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে।
অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে কতদূর এগোলেন উলামায়ে কেরাম? জানতে চাইলে মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারি বলেন, মাওলানা সাদ সাহেবের বিভ্রান্তি সমূহের ওপর উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রকাশের যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। মারকাযুদ দাওয়াহর মাওলানা আবদুল মালেক, আকবর কমপ্লেক্সের মুফতি দিলাওয়ার, হাটহাজারী মাদরাসার মুফতি কেফায়াতুল্লাহ, রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসার মুফতি নুরুল আমীন, মুফতি আবদুস সালাম, বসুন্ধরা থেকে মুফতি এনাম সাহেবসহ শীর্ষ মুফতিদের সমন্বয়ে এবং জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মুফতি মাহফুজুল হক সাহেবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যেই ফতোয়া তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।
তাবলিগের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগি মুরব্বিদের সমন্বয়ে ১৫-১৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হবার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছিল ১০ ডিসেম্বরের বৈঠকে। এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারি জানান, সিদ্ধান্তটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিটি এখনও গঠিত হয়নি।
তবে বিশ্ব ইজতেমা নির্ধারিত তারিখে করার জন্য উলামায়ে কেরাম আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের সঙ্গে আভ্যন্তরীণভাবে এ ব্যাপারে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারি।
