
পথশিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করছে পথশিশুদের উন্নয়নমূলক সংগঠন লিডো। গতকাল পথশিশু দিবস উপলক্ষে ফাতেহের পক্ষ থেকে আলাপ হয়েছিল লিডো’র চিফ কো-অর্ডিনেটর আবু বকর সিদ্দিক জাবেরের সঙ্গে। জাবের জানিয়েছেন পথশিশুদের কল্যাণে কী করা যেতে পারে, কীভাবে কী করলে তাদের উপকার হয় এবং লিডো’র কার্যক্রমের কথা। আলাপচারিতা সাজিয়েছেন হামমাদ রাগিব।
পথশিশুদের কল্যাণে কী করা যেতে পারে?
পথশিশুদের আসল কল্যাণ হলো তাকে রেসকিউ করা এবং তার পুনর্বাসন করা। এ ক্ষেত্রে তার পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার। একান্ত না পাওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কোনও উপযোগী ও বিশ্বস্ত শেলটারে আশ্রয় দেওয়া যেতে পারে। প্রকল্প-ভিত্তিক কাজ না করা চাই। মানে হলো, কিছু শিশুকে আমি শেলটারে আশ্রয় দিয়ে বা অন্যভাবে সাপোর্ট করছি , কিন্তু আমার প্রকল্প শেষ ও ফান্ড শেষ হয়ে গেলে তাদেরকে আবার বের করে দিলাম বা সাপোর্ট হুট করে বন্ধ করে দিলাম, এমনটা যাতে না করা হয়।
পথশিশু-সমস্যা সমাধান কীভাবে করা যায়?
পথশিশু-সমস্যা সমাধানে এবং এর উৎসমূল বন্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা বৃদ্ধি আবশ্যক। বাড়ি ছাড়া বা পরিবার ছেড়ে আসার কারণগুলো সমাধান করা উচিত। শখের বশে বা দান করার মানসিকতা থেকে পথের শিশুদের জন্য অস্থায়ী কিছু করা ঠিক না, সেটা খাবার হোক বা শিক্ষা ইত্যাদি; এসব বন্ধ করা উচিত। কারণ এতে এই শিশুরা পথে থাকার একটা সুযোগ পেয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে নানান ধরনের অপরাধ ও জীবনের ঝুঁকিতে জড়িয়ে পড়ে। মাদক নেয় ও অপরাধ চক্রে জড়িয়ে যায়। তাই এদেরকে উদ্ধার ও পুনর্বাসনে মনযোগী হওয়া কর্তব্য।
পথশিশুদের সঙ্গে কেমন আচরণ কাম্য?
পথশিশুদের পথশিশু পরিচয় না দিয়ে শিশু বলে ডাকা চাই এবং তাদের সার্বিক নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করা চাই। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন এবং হাসপাতাল ইত্যাদির কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে দিলখোলা আচরণ করতে হবে।
আলেমদের কি কিছু করার আছে এই শ্রেণিকে নিয়ে?
অবশ্যই আছে। উলামাদের অনেক কিছু করার আছে। কারণ মসজিদের মিম্বর ও বয়ানের মঞ্চের মাধ্যমে তারা যে হারে জনগনের সাথে মেশেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ পান তা কোনো এনজিও করতে গেলে শত কোটি টাকা খরচ করতে হবে। সুতরাং এই যে, তালাকের লাগামহীনতা, পরকীয়া, পরিবার ভেঙে যাওয়া, দারিদ্রতা এবং শিশুর উপযোগী শিক্ষার পরিবেশের অভাব এবং অন্যান্য কারণগুলো এড্রেস করে সে বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে। এক্ষত্রে এনজিও ও সেবা সংস্থাগুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করে এগুনো সময়ের দাবি।
মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ এই শিশুদের থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করতে পারে। এবং পাশাপাশি মসজিদ ও এ ধরণের ধর্মীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সামাজিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে আর্থিক অনুদান ইত্যাদির মাধ্যমেও পথশিশুদের কল্যাণ করা যায়।
লিডোর কার্যক্রম সম্পর্কে একটু বলবেন?
পথশিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে লিডো শুরু থেকে পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ট্রাঞ্জি্শটনাল শেল্টারের মাধ্যমে বিগত ৪ বছরে প্রায় ২ হাজার শিশু উদ্ধার ও পুনর্বাসিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ শিশুকে পরিবারে পাঠানো হয়েছে দেশব্যাপী। বাকি শিশুদের সরকারি ও বেসরকারি নানান আশ্রয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি ‘পিস হোম’ নামে একটা স্থায়ী নিবাসও চালু করেছে লিডো। যেখানে ৫২টি শিশু থাকছে এবং এর মাঝে ২০ জন প্রতিবন্ধকতার শিকার শিশুও আছে। তারা পড়াশোনা করে এবং নিজেদের ঘরের মতোই থাকে পারিবারিক আবহে। পথের শিশুদের উদ্ধার ও তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে মোবাইল স্কুল, স্কুল আন্ডার দ্য স্কাই ও আমাদের স্কুলের মাধ্যমে সদরঘাট, রায়ের বাজার, কমলাপুর, দিয়াবাড়ি, কাওরান বাজার ইত্যাদি স্থান হতে নিয়মিত শিশু উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া হিফজুল কোরআন স্পন্সরশিপ, চাইল্ড স্পন্সরশিপ ও পথপরিবার পুনর্বাসনসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে লিডো।
ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। কৃতজ্ঞতা জানবেন।
আপনাদেরও ধন্যবাদ, আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। শোকরান লাকুম।
