ইশা ছাত্র আন্দোলনের দাবি ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, তারা ধর্মভিত্তিক দল নয়

বিশেষ প্রতিবেদক

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ছাত্র আন্দোলন ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠন নয় দাবি করে বলেছেন, ‘যাঁরা আমাদের ধর্মভিত্তিক সংগঠন বলে মনে করেন, তাঁদের ভুল ধারণা আছে৷ ধর্মকে আমরা ব্যক্তিগত ব্যাপার মনে করি। আমাদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আমাদের সংগঠন নিরেট আদর্শিক সংগঠন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

এদিকে ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গত ২৩ জানুয়ারি মিছিল করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে চায় তারা। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্রসংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হলে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন।

তবে ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠন ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী ও ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে কাউকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

এককভাবে ও পূর্ণ প্যানেলে ডাকসু নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, দলমত–নির্বিশেষে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাঁরাও হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র চান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান দাবি করেন তাঁরা।

এদিকে ডাকসুতে ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, পরিবেশ পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ বহু আগে থেকেই৷ ধর্মভিত্তিক সংগঠনের প্রসঙ্গ সর্বশেষ সিন্ডিকেট (২৯ জানুয়ারি) সভায় উঠেছিল৷ আলোচনায় সেই নিষেধাজ্ঞা বহালই রাখা হয়েছে৷ ধর্মভিত্তিক সংগঠনের ডাকসু নির্বাচন করা তো দূরের কথা, ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর এখতিয়ারই নেই।

উৎস : প্রথম আলো

আগের সংবাদইজতেমার নিরাপত্তাপ্রশ্নে যে কারণে উদ্বিগ্ন সবাই
পরবর্তি সংবাদযুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা : আফগান বাহিনীতে হতাশা, প্রভাব বাড়ছে তালেবানের