ইজতেমা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে বৈঠক, কাঙ্ক্ষিত কোনো সুরাহাই হয়নি

রাগিব রব্বানি

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাবলিগের বিবদমান উভয়পক্ষকে নিয়ে আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন আলেমপন্থী শুরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের, সাদপন্থী শুরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলামসহ তাবলিগের উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি। এ ছাড়াও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় দেড় ঘণ্টার এ বৈঠকে ইজতেমার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কারা থাকবেন, বয়ান কারা করবেন, সাদপন্থী তাবলিগিদের কারা কারা বয়ান করবেন, নিজামুদ্দিনের কোনো প্রতিনিধি নেতৃত্বে থাকবেন কি-না, নামাজের ইমামতি কার জিম্মাদারিতে হবে, সর্বশেষ আখেরি মুনাজাত কে করবেন—কোনো বিষয়েই সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়নি।

বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই উভয়পক্ষের অংশগ্রহণে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইজতেমার নেতৃত্বে কারা থাকবেন, সে-বিষয়ে মাননীয় ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ধর্মমন্ত্রণালয়ে কিছু দিনের ভেতর আবারও বৈঠক হবে। এতে বিবদমান উভয়পক্ষের দুজন দুজন করে মোট চারজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। এবং তাঁদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ইজতেমার বয়ান কারা করবেন ও আখেরি মুনাজাত কে পরিচালনা করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ইজতেমার মাঠ তৈরি, সাফাই এবং মাঠের প্রস্তুতিমূলক যাবতীয় কাজ এ বছর গাজিপুরের মেয়র, বিভাগীয় কমিশনার ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। তাঁরাই নির্ধারণ করবেন, কীভাবে, কাদের অংশগ্রহণে মাঠ প্রস্তুত করা হবে।

এদিকে সাদপন্থী তাবলিগিদের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ইজতেমায় নিজামুদ্দিনের নেতৃত্ব নিশ্চিত না হলে তারা ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন না। যৌথভাবে ইজতেমা আয়োজনের ব্যাপারে একমত হবার পরও তারা ভিন্ন ও একক ইজতেমার প্রস্তাব করে আসছেন বিভিন্ন মিটিংয়ে।

আজকের বৈঠক-পরবর্তী একই সংবাদ সম্মেলনে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ইজতেমা একটাই হবে এবং উভয় পক্ষের অংশগ্রহণেই হবে। এর জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা সাধ্যমতো করে যাব। কিন্তু আলাদাভাবে একাধিক ইজতেমার কোনো সুযোগ নেই।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে এবারের ইজতেমায়। কোনোভাবেই যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না-ঘটতে পারে সেদিকে কড়া নজরদারি করবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আগের সংবাদদিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার মাদরাসা-ছাত্রী
পরবর্তি সংবাদআফগান-যুদ্ধের অবসানে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, তালেবানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া তৈরিতে ব্যস্ত বিশেষ দূত