
ফাতেহ ডেস্ক
গণতন্ত্র ধরে রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ আহ্বান জানান তিনি। ড. কামাল বলেন, জাতীয় ঐক্যই জনগণের শক্তির মূল ভিত।
তিনি আরো বলেন, যারা এই শক্তিকে নষ্ট করতে চায়, তারা আসলে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে এসময় অভিযোগ করেন গণফোরাম সভাপতি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
আজ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল দিন ২৬শে মার্চ। একাত্তরের আজকের দিনেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে আবির্ভাব ঘটে বাংলাদেশের। আর, স্বাধিকার আদায়ে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম এ দিন থেকেই রূপ নেয় সশস্ত্র যুদ্ধে।
একাত্তরের মার্চের শুরু থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙালির মুক্তির ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে একদিকে চলে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন, অন্যদিকে আলোচনার নামে কালক্ষেপণের মধ্যদিয়ে গণহত্যার নীলনকশা করে ইয়াহিয়া সরকার। ২৫শে মার্চ রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। মৃত্যুপুরীতে পরিণত ঢাকাসহ গোটা দেশ।
অপারেশন সার্চ লাইট শুরুর পরপরই গ্রেপ্তার হন স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। আটকের আগেই ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে পাঠান বার্তা। সে বার্তাই ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বেতারসহ বিভিন্নভাবে প্রচার হয় সারাদেশে।
শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ২৫শে মার্চের মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হত্যাযজ্ঞের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশিরা এই দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ নেয়। প্রথম প্রতিরোধ আসে রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ইপিআর থেকে। তারপর টানা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদানে অর্জিত হয় একটি স্বাধীন দেশ।
একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা আয়োজনে দিনটি পালন করছে গোটা দেশ।
