
ফাতেহ ডেস্ক
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের ক্ষমায় মুক্তি পেয়েছেন রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় আটক হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সোয়ে (২৮)। আজ মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনের একটি কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। নতুন বছর উপলক্ষ্যে ১৭ই এপ্রিল থেকে কয়েক হাজার কারাভোগকারীকে রাজক্ষমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এরই অংশ হিসেবে ছাড়া পেলেন প্রায় দেড় বছর কারাভোগকারী রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিক।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা অনুসন্ধানের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। গেল ২৩ এপ্রিল, দণ্ডপ্রাপ্ত দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতার ঘটনা অনুসন্ধানের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়েকে গ্রেপ্তার করে মিয়ানমার পুলিশ। সে সময়, তাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভাঙার অভিযোগ আনা হয়।
পরে গত বছর সেপ্টেম্বরে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় ইয়াংগুনের জেলা জজ আদালত। পরে, হাইকোর্টেও ওই রায় বহাল থাকে। তখন ওই রায়ের ফলে গোটা বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তাদের আটক করা প্রসঙ্গে, ‘ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে আদালতে বলেন, ‘ইয়াঙ্গুনের একটি রেস্টুরেন্টে গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর প্রথমবার দেখা করতে গেলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের হাতে মুড়িয়ে রাখা কিছু কাগজ ধরিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে পুলিশের একটি গাড়িতে তুলে নেয়। যে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তারা সেদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে আগে কখনও সাক্ষাৎ হয়নি।’
তবে, অন্য পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের সাক্ষী দিতে গিয়ে বলেন, ‘নিয়মিত একটি ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্টে ওই দুই সাংবাদিককে তল্লাশি করা হয়। যে কর্মকর্তারা তাদের তল্লাশি করেন তারা জানতেন না যে এরা সাংবাদিক। তবে ওই তল্লাশির সময়ে তাদের কাছে অজ্ঞাত উৎসের গোপন নথি পাওয়া যায়।’
