
ফাতেহ ডেস্ক
একজন চা বিক্রেতা থেকে রাজনীতিক, এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যাত্রাটা সহজ না হলেও নিজের লক্ষ্যে অটুট ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।
বিশ্বাস করেন হিন্দু জাতীয়তাবাদে। ভারতের ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে মোদিই প্রথম প্রচারক, যিনি মাত্র ১৩ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪ সালে কৌশলী প্রচারে দক্ষ মোদি বিপুল জনসমর্থন পেয়ে হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের মেহসানা জেলায় জন্ম নরেন্দ্র মোদির। কৈশর থেকেই শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। শৈশবের অনেকটা সময়ই কেটেছে বাবার সঙ্গে রেলস্টেশনে চা বিক্রি করে।
স্কুলজীবনে বিতর্ক আর থিয়েটারে বেশ আগ্রহ ছিল মোদির। যার প্রভাব তার রাজনৈতিক জীবনেও বেশ স্পষ্ট। স্কুলে পড়ার সময়ই মোদির অর্চনার বিষয়টিও অনেকের নজরে আসে। প্রায়ই পরিবার থেকে বেরিয়ে নির্জন কোন স্থানে গিয়ে করতেন উপাসনা। কখনো আবার উপাসনার জন্য বেছে নিতেন হিমালয়কে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর দেশজুড়ে ঘুরে বেড়ান দুই বছর।
১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ আরএসএসে। ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করে রাজনৈতিক বিরোধীদের ধরপাকড় শুরু করলে আত্মগোপনে যান মোদি। রাজনীতিতে জড়ানোর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতার জন্য বড়দের কাছে প্রশংসা কুড়ান মোদি। ১৯৮৮ সালে গুজরাটে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হন। এর মধ্য দিয়েই মূলধারার রাজনীতিতে যাত্রা শুরু তার। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থানটা পোক্ত করে নেন বিজেপিতে।
১৯৯৫ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে মোদী ছিলেন বিজেপির অন্যতম কৌশলপ্রণেতা। সেসময় দলটির গুজরাট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। সেবার সাফল্যের পর অন্যান্য নির্বাচনেও এই দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৮ সালে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হয় মোদির। এরপর আরো তিন দফা ওই পদে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। গুজরাটকে পরিণত করেছেন উন্নয়নের মডেলে।
গুজরাটে ২০০২ সালের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা উসকে দিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষকে হত্যার ঘটনায় মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। তবে সেসময় তাকে বাঁচিয়ে দেন আডভানি। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে মোদির পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। কিন্তু ২০০২ সালে গুজরাটের নির্বাচনে মোদির জয় তাকে আবারও নিয়ে আসে আলোচনায়। মোদির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘোরে তখন থেকেই।
এরপর ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। নির্বাচনে জিতে ভারতের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হন মোদি।
