
রাকিবুল হাসান
অপহৃত হবার সাড়ে চার মাস পর খোঁজ মিললো মেধাবী তরুণ আলেম এবং মাদরাসাশিক্ষক মাওলানা আব্দুল্লাহ মায়মুনের। তিনি বগুড়া জেলা কারাগারে আছেন। তাঁর জামিনের প্রসেসিং চলছে ।
সিলেটের হযরত শাহ সুলতান রহ. সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি, মাওলানা আব্দুল্লাহ মায়মুন বগুড়া জেলা করাগারে আছেন। দু’একদিন আগে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা মামলার কপি তোলার চেষ্টা করছি।’
গত দু’একদিন আগে মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে গত চার মাস কোথায় ছিলেন তিনি, এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা নুমানুল হক বলেন, ‘এর আগে আব্দুল্লাহ মায়মুন কোথায় ছিলেন, আমরা এখনও জানি না।’
উল্লেখ্য যে, মাওলানা আবদুল্লাহ মায়মুন মেধাবী তরুণ আলেম এবং মাদরাসাশিক্ষক। নারায়ণগঞ্জের একটি মাদরাসায় হাদিসের অধ্যাপনা করতেন। মা-বাবা লন্ডন থাকেন। নতুন বিয়ে করেছেন।গত ০৫/০৩/১৯ তারিখে নববধূকে নিয়ে সিলেট থেকে প্রাইভেট কারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন মৌলভীবাজারে অবস্থিত মামাবাড়িতে। পথিমধ্যে গাড়ির গ্যাস নেওয়ার জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউসকান্দি এলাকায় একটি গ্যাসপাম্পে গাড়ি থামান। গ্যাস নিয়ে কিছুদূর এগোতেই একটি হাইএস মায়মুনের গাড়ির গতিরোধ করে। এবং অস্ত্রের মুখে মায়মুন ও তাঁর ড্রাইভারকে নিয়ে হাইএসটি উধাও হয়ে যায়।
গত ৫ মার্চ মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসপাম্পের সিসিক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু ঘটনার তেরদিন পরেও পুলিশ এর কোন হদিস করতে পারেননি। গত ১১ তারিখে কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ভাই মাওলানা আব্দুল্লাহ মুস্তাফিজকে ফোন করে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে বহুবার আইনের দুয়ারে ধর্ণা দিয়েও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রকার আইনি সহায়তা পাননি।
