জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ

ফাতেহ ডেস্ক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে অতি দ্রুত সব কাজের নকশা প্রণয়ন ও ব্যয় প্রাক্কলন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বায়তুল মোকাররম সংস্কারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়ার পর ধর্ম মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করে মসজিদের সংস্কারে ইতিবাচক সাড়া দেয়। ইতঃপূর্বে ধর্মমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মসজিদ পরিদর্শনকালে মসজিদের অসমাপ্ত কাজ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে সংস্কারের আগ্রহ ব্যক্ত করার পরই ইসলামিক ফাউন্ডেশন কাজের জন্য চাহিদাপত্র পাঠায়।

সংস্কারের পরিকল্পনায় থাকছে মসজিদের পূর্বদিকের অসামপ্ত নির্মাণ কাজ সমাপ্তকরণ, পূর্বদিকের মিনার নির্মাণ ও মসজিদের পূর্বপাশের সাহানের ওপরের শেড সরিয়ে ওই অংশকে দৃষ্টিনন্দন করা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মসজিদের মেজের মোজাইক পাথর সরিয়ে উন্নতমানের পাথর বা টাইলস বসানো এবং মসজিদের মূল ফটক হিসেবে পরিচিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংলগ্ন পূর্ব গেটের সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করে পুনরায় খুলে দেয়া হবে। সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এসব কাজের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে চাহিদাপত্র পাঠানোর পরই মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম এ ব্যাপারে গতকাল বলেন, আমরা হজ ব্যবস্থাপার কাজে এত দিন ব্যস্ত ছিলাম। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়ন শুরু করব। তিনি বলেন, এখানে অনেক টেকনিক্যাল ব্যাপার রয়েছে। এই কাজে কিছু জনবল সংযুক্ত করতে হবে। ফলে আমাদের এ ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গত ২৫ জুলাই বায়তুল মোকাররমের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় নকশা ও ব্যয় প্রাক্কলন তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য ডাকা হলেও তাতে বিবিধ আলোচনায় বায়তুল মোকাররমের পূর্বাংশের পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য সব সংস্কার কাজের বিষয়টিও এজেন্ডাভুক্ত করে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতরের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে অতি দ্রুত নকশা ও ব্যয় প্রাক্কলন করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বিষয়টি অতি দ্রুত ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ দায়িত্ব নেয়ার পর মসজিদ পরিদর্শনে এসে মসজিদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তিনি হজের পরে মসজিদের উন্নয়নের কাজে হাত দেয়ার আশ্বাস দেন। ঈদুল ফিতরের পরই মসজিদের বিভিন্ন সংস্কার কাজের জন্য লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ইফার একজন উপপরিচালক বলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম একটি বিশাল স্থাপনা। কিন্তু এটির রক্ষণাবেক্ষণের দিকটি দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত। সৌদি অর্থায়নে ২০১০ সালে সর্বশেষ সম্প্রসারণের কাজ হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই বহু দিন। এই অবস্থায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ প্রথমবার মসজিদ পরিদর্শনে এসে এই জরাজীর্ণ অবস্থায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পূর্ব দিকের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ মসজিদের সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে পূর্বদিকের সাহানে সৌদি অর্থায়নে নির্মিত বিশাল শেডও মসজিদের সৌন্দর্যকে ম্লান করেছে মন্তব্য করে তিনি তা সরিয়ে ফেলে ওই অংশকে দৃষ্টিনন্দন করার কথা বলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রায় ১৯ ধরনের কাজের জন্য রিকুইজিশন পাঠাই। এর মধ্যে রয়েছে মসজিদের পূর্বাংশের নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা, পূর্বদিকের মিনারটি নির্মাণ করা, সাহানের শেড সরিয়ে অন্যভবে ওই অংশকে দৃষ্টিনন্দন করা এবং আলো বাতাস প্রবেশের পথ আগের মতোই রাখা, মসজিদের মেঝের জরাজীর্ণ পাথর সরিয়ে নতুনভাবে পাথর বা টাইলস বসানো, মসজিদের অজুখানা ও টয়লেটগুলো সংস্কার, মসজিদের ভেতরের দেয়ালের খসে যাওয়া প্লাস্টার পরিবর্তন করে নতুন প্লাস্টার দিয়ে রঙ দেয়া, নতুন এসি, ফ্যান, মাইক, সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত করা, মসজিদের শূন্যপদে জনবল নিয়োগ ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, বায়তুল মোকাররমের সদর গেট পূর্বদিকের গেটটি। কিন্তু বর্তমানে সেই গেইটটি চলাচল অনুপযোগী। ক্রীডা পরিষদ সংলগ্ন গেট নিয়ে কিছুটা জটিলতাও রয়েছে। তবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জটিলতা নিরসন করে দ্রুতই মসজিদের গেটটিও সচল করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। ফলে ওই গেটের সংস্কার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির সংস্কারের তালিকায় রাখা হয়েছে।

এসব ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাজের মধ্যে পূর্ব গেটটি পরিষ্কার করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া অন্যতম কাজ হবে। গেটটি নিয়ে আইনগত যে জটিলতা ছিল তাও নিরসনের পথে বলেও তিনি জানান। পূর্বাংশের সাহানের ব্যাপারে তিনি বলেন, সেটি সরানো হবে। সেটির পরিবর্তনে নতুনভাবে কী করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থাপত্যবিদরা যেভাবে সাজেস্ট করবেন সেভাবেই করা হবে। মসজিদের মেঝের ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে পুরো মসজিদের সংস্কারে আরো কী কী প্রয়োজন আরো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্থাপত্যবিদদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কাজের জন্য নকশা তৈরি করব। সচিব বলেন, বায়তুল মোকাররম সংস্কারের জন্য আমাদের কোনো অর্থসঙ্কট নেই। আমরা সঠিকভাবে নকশা তৈরি করে ব্যয় প্রাক্কলনের মধ্য দিয়ে দ্রুতই কাজে হাত দিতে পারব বলে আশা রাখি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ধর্ম মন্ত্রলয়ের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৩৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ১৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেশি। গত অর্থবছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল এক হাজার ১৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। অবশ্য এই টাকার ব্যয়ের পরও ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ৩২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকার সম্পূরক বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়।

উৎস : নয়া দিগন্ত

আগের সংবাদআসামে সরকারি রেকর্ডে ঘাটতি, দুর্ভোগে এনআরসি আবেদনকারীরা
পরবর্তি সংবাদদেশে ফিরেছেন ৪৮ হাজার ২১১ জন হাজি