‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে’

রাগিব রব্বানি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গঠনতন্ত্রে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ডাকসু ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ডাকসু নেতৃবৃন্দের সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর ইসলামি ছাত্র সংগঠনগুলো ডাকসুর এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর গণমাধ্যমকে জানান, গতকালের মিটিংয়ে তিনি উপস্থিত থাকলেও ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধের পক্ষে ছিলেন না। তিনি প্রস্তাব রেখেছিলেন, ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা সংবিধান-পরিপন্থী, অতএব ধর্মভিত্তিক সংগঠন নয়, উগ্র ও মৌলবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ করা হোক। কিন্তু তাঁর এ প্রস্তাব উপেক্ষা করে ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া আরও নানা প্রস্তাবে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়ে গতকাল মিটিং শেষ না করেই সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।

একদিকে ঢাবি উপাচার্য বলছেন, মিটিংয়ে ডাকসুর সকল নেতার স্বতঃস্ফূর্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে, অপরদিকে ভিপি নুর বলছেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধে তাঁর দ্বিমত ছিল। ফলে একটা ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে গতকাল থেকে। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে কথা হয় নুরুল হক নুরুর সঙ্গে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয়, উগ্রবাদী রাজনীতির বিলোপ চান নুর

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, গতকালের মিটিংয়ে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, সেখানে আমার স্পষ্ট দ্বিমত ছিল। প্রস্তাবটি মূলত ছাত্রলীগের ছিল, এবং ডাকসুতে আমরা দুজন ছাড়া বাকি সকলেই যেহেতু ছাত্রলীগের, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছে।

নুর আরও বলেন, এ বিষয়ে আমার প্রস্তাব ছিল, ধর্মভিত্তিক সংগঠন নয়, বরং উগ্র ও মৌলবাদী সংগঠন, যাদের দ্বারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর আশংকা রয়েছে, সে ধরনের দলকে নিষিদ্ধ করা হোক।

কিন্তু এ ধরনের কোনো সংগঠন ঢাবি ক্যাম্পাসে বর্তমানে ক্রিয়াশীল আছে কিনা জানতে চাইলে নুর বলেন, না, এ ধরনের কোনো সংগঠনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে বর্তমানে নেই, ভবিষ্যতেও যাতে না থাকে এ জন্যই মূলত আমি প্রস্তাবটা করেছি।

কিন্তু উপাচার্য বলছেন সকলের ঐক্যমত্যে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, আর আপনি বলছেন আপনার দ্বিমত ছিল, ব্যাপারটা ধুম্রজালের সৃষ্টি করছে কিনা জানতে চাইলে ডাকসু ভিপি বলেন, তিনি হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক বিবেচনা করে এমনটা বলেছেন, আমি তো আমার অবস্থান পরিস্কার করলাম। এ নিয়ে শিগগির প্রেস রিলিজও দেবো গণমাধ্যমে। আশা করি ধুম্রজাল আর থাকবে না।

রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে ঢাবিতে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার প্রাসঙ্গিকতা নেই

ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক যে কয়টি সংগঠন রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই মাদারপার্টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দলগুলোর বৈধতা রয়েছে। বৈধ এসব দলকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা কতটা আইনসঙ্গত জানতে চাইলে ভিপি নুর বলেন, হ্যাঁ, এ জন্যই মূলত আমি ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে দ্বিমত করেছি। ক্যাম্পাসে বৈধভাবে প্রতিটা নিবন্ধিত দলের রাজনীতি করার অধিকার আছে। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে গিয়ে ঢাবি কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই।

ধর্মভিত্তিক ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিবাদে সমর্থন

ঢাবিতে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের এই প্রতিবাদকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ভিপি নুর বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যেহেতু রাষ্ট্রীয় আইনে বৈধ, ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা তাই একটা বৈধ অধিকার। আমি ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীদের যেকোনো বৈধ অধিকার আদায় এবং প্রতিবাদের সঙ্গে সবসময় একাত্মতা পোষণ করে আসছি। ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর এই প্রতিবাদকেও যৌক্তিক মনে করছি এবং তাদের প্রতিবাদে পরিপূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল জোটভুক্ত এবং জোটের বাইরে ক্রিয়াশীল অন্যান্য বাম দল দীর্ঘ দিন যাবত ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল। গত ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলও এ দাবির জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ডাকসুর তৃতীয় কার্যনির্বাহী সভায় ঢাবি ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন : ডাকসু নির্বাচনে ইসলামোফোবিয়া কেন?

আগের সংবাদকাশ্মীরি নাগরিকের সঙ্গে বিএসএফের গাড়ির ধাক্কা, উত্তপ্ত কাশ্মীর
পরবর্তি সংবাদ‘ঢাবিতে অন্যান্য মতাদর্শের প্রচার চলতে পারলে মুহাম্মদি মতাদর্শের প্রচার কেন চলবে না?’