‘যুদ্ধে বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না ভারত’, বিজিবির সাবেক মহাপরিচালকের হুংকার

ফাতেহ ডেস্ক :

ভারত যুদ্ধে বাংলাদেশেকে পরাজিত করতে পারবে না বলে হুংকার দিয়েছেন বিজিবির প্রাক্তন মহা পরিচালক জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান। ১৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভারতীয় জেলেকে জোর করে ছাড়িয়ে নিতে এসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং বিজিবির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিএসএফের ভুল, আইন বিরোধী পদক্ষেপ ও অবিমৃশ্যকারিতার জন্য বিজয় ভান সিং নিহত হলেন। আহত হলেন আরো ১জন সৈনিক রাজবীর ইয়াদব। আমার ধারনা, বিএসএফের এই করুন মৃত্যুর জন্য ভারতের কিছু অপরিণামদর্শী রাজনীতিবিদ দায়ী। যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং নেপালকে দেখে তাদের মৌরুশী পাট্টা হিসাবে। এরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর নেপালকে সিকিমের মতো হাতে বিড়ি আর মুখে পান চিবুতে চিবুতে দখল করে নিতে চায়। ভাবটা এই-‘হাতে বিড়ি মুহমে পান/ লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান।’

বিজিবির প্রাক্তন মহা পরিচালক বলেন, ভারতের এই অর্ধ শিক্ষিত রাজনীতিকরা ভুলে গেছে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশকে যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব নয়। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের কথা নাহয় নাই বললাম। আজকে প্রত্যেক জাতির কাছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। অস্ত্র সংগ্রহ করা এখন আর কঠিন কোনো বিষয় নয়। অতএব যুদ্ধ করে এখন জয় লাভ করা কোনো জাতির পক্ষে সম্ভব নয়। আর পারমাণবিক অস্ত্র আজ যুদ্ধের জন্য নয়। এটা ডেটারেন্ট হিসাবে কাজ করে।

ভারতের কল্পিত অস্ত্রশক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গি বিমান নিয়ে বোম ফেলতে গিয়ে কী নাকানি-চুবানি খেল সারা বিশ্ব দেখেছে। পাইলট অভিষেক বারধাওয়ান কিভাবে ভারতে ফিরে গেলো সবাই দেখেছে। এর পরেও এইসব ভারতীয় রাজনীতিবিদরা হুঁশে না এসে তাদের বাহিনীর শক্তি আর সামর্থ নিয়ে এমন অবাস্তব সব গাল-গল্প করে, যা সিনেমার সানি দেওলের কথা মনে করিয়ে দেয়। একাই সানি দেওল পাকিস্তানের ১ডিভিশন সৈন্যকে পরাজিত করে ফেললো। ভারতের অবাস্তব সিনেমা আর অর্ধ শিক্ষিত রাজনৈতিকদের প্ররোচনায় আজ ভারতের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং এর নিহত হবার মতো আনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।

বিএসএফের ডিজি ভি কে জোহরীকে লক্ষ্য করে জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, বিএসএফের ডিজি ভি কে জোহরীক অনুরোধ করব নিজ বাহিনীর কাছে সত্য প্রকাশ করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। অসত্য একটি বাহিনীকে ভেতর থেকে খোকলা করে ফেলে। আরো অনুরোধ করব সীমান্তে বিএসএফকে বর্ডার গাইডলাইন ১৯৭৫ অনুসরণ করতে নির্দেশ দিতে। তাহলে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বীরত্বপূর্ণ অতীত ও বর্তমানকে গর্বের সাথে স্মরণ করে তিনি বিজিবিকে অভিনন্দনও জানান।

আগের সংবাদলখনৌতে মহানবী (স.)-এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারী হিন্দু নেতা খুন
পরবর্তি সংবাদফ্রান্সের মিডিয়ায় হিজাব বিদ্বেষ, নেয়া হচ্ছে না মুসলিম মহিলাদের মতামত