আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি ফেটু বেনসুডার যুক্তি খারিজ করে দিতে আইসিসিতে নতুন করে আবেদন করেছেন মিয়ানমারের সাবেক বিচারপতি ড. টিন অং আয়ে। মিয়ানমারের কথিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পরিচয়ে গত শুক্রবার আইসিসির কাছে আবেদন করেন তিনি। টিন অং বলেন, মিয়ানমারের জটিল পরিস্থিতি সঠিকভাবে বুঝতে মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আবেদন আইসিসির আমলে নেওয়া উচিত।
এর আগে গত মাসে ড. টিন অং আয়ে নিজেকে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি নন বলে উল্লেখ করেন। তবে আইসিসিতে করা আবেদনে তিনি কার্যত মিয়ানমার সরকারের অবস্থানই তুলে ধরেন। আইসিসির কৌঁসুলি রোহিঙ্গা ইস্যুতে রোম সংবিধি অনুসরণ করছেন না—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। ড. টিন অং আয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা যেসব অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই।
গত শুক্রবার টিন অং আয়ে বলেন, তাঁর পর্যবেক্ষণ বা যুক্তি নিঃসন্দেহে কৌঁসুলি ফেটু বেনসুডা ও অন্য নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ বা যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কৌঁসুলির আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত যদি মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়, তাহলে ধারণা হতে পারে যে আদালত এমন নীতি অনুসরণ করছেন, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করার অনুমতি দেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের কথিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালতের বন্ধু) হিসেবে আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলেও মিয়ানমার ওই বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমার আইসিসিসংক্রান্ত ‘রোম সংবিধি’ সমর্থন করে না। তাই আইসিসির বিচারিক এখতিয়ারও মিয়ানমার স্বীকার করে না। রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুত হয়ে আইসিসির সদস্য বাংলাদেশে আসার কারণে গত বছর আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি তদন্ত ও বিচারের এখতিয়ার আইসিসির আছে। এর পর থেকে মিয়ানমার এর বিরুদ্ধে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
