আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের পশ্চিমাঞ্চল জিনজিয়াং প্রদেশে হান চাইনিজ পুরুষদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য উইঘুর নারীদের বাধ্য করছে চীন। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে রাজি না হলে তাদের পরিবারকে বন্দী শিবিরে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।
উইঘুর অধিবাসীরা মূলত মূসলমান, তুর্কী জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। হান চীনের একটি বৃহত্তম জাতি। ঐতিহাসিকভাবেই তাদের মাঝে বিবাহ না হবারই কথা। কিন্তু চীনে গত ত্রিশ বছরে এক সন্তানের বেশী বাচ্চা নেয়ার বিধান ছিল না। ফলে বিয়ে করতে গিয়ে সংকটে পড়ছে চাইনিজ ছেলেরা। বিয়ে করার মত চাইনিজ মেয়ে খুঁজে পাচ্ছে না। তাই সরকার আইন করে উৎসাহ দিচ্ছে উইঘুর মেয়েদের জোর করে বিয়ে করতে।
২০১৪ সালের শুরুতে একটি কাউন্টিতে হান-উইঘুর স্বামী-স্ত্রী তাদের বিয়ের পাঁচ বছর পর্যন্ত বার্ষিক ১০ হাজার ইউয়ান তথা ১৪৪২ ডলার দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল চীন সরকার। পত্রিকাগুলো ছাপতে শুরু করেছিল ‘কীভাবে উইঘুর মেয়েদের মন জয় করা যায়’ শিরোনামের আর্টিকেল।
চীনের বাইরের উইঘুর অধিবাসীরা বলছেন, উইঘুর মেয়েদের কোনো পছন্দ নেই।
ওয়াশিংটনের মানবাধিকার সংগঠন উইঘুর্স ক্যাম্পেইনের ডিরেক্টর রুশন আব্বাস বলেছেন, উইঘুর মেয়েদেরকে হান ছেলেদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা হচ্ছে। মেয়েগুলোও প্রতিবাদ না করে মেনে নিচ্ছে। কারণ তারা জানে, প্রতিবাদ করলেই তাদের বাবা-মা বন্দী শিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, যে সমস্ত উইঘুর মহিলাদের স্বামী বন্দী শিবিরে আটক, তাদের নজরদারি করতে হান চাইনিজ পুরুষ নিয়োগ দিয়েছে চীনা সরকার। এসব চাইনিজ পুরুষরা স্বামীদের মতোই উইঘুর মহিলাদের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমায়। চীনা সরকারের নথিপত্রে এইসব চাইনিজ পুরুষদের নাম দেয়া হয়েছে ‘রিলেটিভস’ বলে।
শেয়ার আমেরিকা অবলম্বনে
