
ফাতেহ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তজার্তিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান সুইজারল্যান্ডের। একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তা বাড়াতে দাতা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তাগিদ দিয়েছে দেশটি। এসব কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত রেনে হোলস্টেইন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান বের করতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়া উদ্বিগ্ন সুইজারল্যান্ড। তাদের স্বেচ্ছায় ও শান্তিপূর্ণভাবে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করায় জোর দিচ্ছে দেশটি।
ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রেনে হোলস্টেইন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে গত বছরই বাংলাদেশের জন্য মানবিক বাজেট বাড়িয়েছে তার সরকার। কাজ করছে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠির আশ্রয়কেন্দ্রের মানোন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীদের জন্য।
রেনে হোলস্টেইন বলেন, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সুইজারল্যান্ড। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে কাঙ্ক্ষিত তহবিল না আসায় আমরা উদ্বিগ্ন। সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো প্রতি আমরা আহ্বান জানিয়েছি। এতে বিশ্বব্যাংকের এগিয়ে আসা একটি শুভসূচনা। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সহায়তা অব্যাহত রাখাটা কঠিন হবে।
পাশাপাশি ঢাকা-নেপিদোর প্রত্যাবাসন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায় সুইজারল্যান্ড। রোহিঙ্গা ফেরাতে রাখাইনে কোন প্রস্তুতি নেই জানিয়ে, এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে নেপিদোকেই।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলস্টেইন আরও বলেন, মানবিক নয়, রোহিঙ্গা সংকটে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান। আর এজন্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চাই আমরা। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে এর সমাধানের পথ খুঁজছে সুইজারল্যান্ড।
কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে জোর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে, মানবাধিকার নিশ্চিত করে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের অন্য জায়গায় পূর্নবাসনের পক্ষে মত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের।
