
ওমর ফারুক:
ধর্ম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। ধর্ম ছাড়া জীবনের কোন গতি নেই। বিশেষ করে ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্মহীনভাবে জীবন চলতে সক্ষম নয়। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের বইগুলোতে ধর্ম বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ও তত্ত্ব থাকা সত্ত্বেও তেমন একটা ধর্ম চর্চা নেই শিক্ষার্থীদের মাঝে। ধর্মীয় শিক্ষার হারও অত্যন্ত কম।অনেক শিক্ষার্থী পাঁচ কালিমাও সঠিক করে বলতে পারে না। অধিকাংশের কুরআন পাঠও শুদ্ধ নয়।
শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্ম পালনে অনীহা ও পর্যাপ্ত ধর্মীয় জ্ঞান না থাকা নিয়ে আশঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন আশঙ্কা ও উদ্বেগ থেকে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় চট্টগ্রাম ওমরগণি এম.ই.এস কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সঙ্গে।
তিনি ফাতেহ২৪ কে জানান, আমি মনে করি, স্কুল কলেজে ভালো মান ও পরিমাণের ধর্মীয় সিলেবাস থাকা সত্ত্বেও ধর্ম পালনের অনীহার বিষয়টি পরিবেশগত কারণে তৈরি হয়। মাদরাসা-মসজিদে যে পরিবেশে ধর্মীয় পড়াশোনা ও চর্চা করা হয়, স্কুল-কলেজে সে পরিবেশ নেই। তবে শিক্ষকদের একান্ত প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতা ও ইমামদের ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্ম চর্চার পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
স্কুল কলেজের ধর্মীয় বইগুলো ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভালোমানের সিলেবাস রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ধর্ম বিষয়টি ঐচ্ছিক। এ কারণে শিক্ষার্থীরা হয়তো পুরোপুরি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারছেনা। তবে আমি বলবো, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটির মতো ধর্ম শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে । সিলেবাসে ধর্ম যুক্ত করার পাশাপাাশি নৈতিকতাবোধের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্ম শেখানের ব্যবস্থা নেই। যেমন ফিংল্যান্ড, নরওয়ে ও নিউজিল্যান্ডের পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় কোনো প্রবন্ধ নেই। তবে শতভাগ নৈতিক শিক্ষা রয়েছে। তাদের সিলেবাসেও নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়। তারা গির্জায় তেমন একটা যায় না। কিন্তু তারা নৈতিকতা সম্পন্ন। আমাদের বাংলাদেশে মসজিদ, মাদরাসা, ওয়াজ নসিহতের ব্যাপকতা থাকার পরও চোর বাটপার, সন্ত্রাস ও নেশাখোরদের অভাব নেই। এর কারণ তৃণমূল পর্যায়ে ধর্ম চর্চা নেই। ধর্মের বাণী মানুষকে স্পর্শ করতে পারছেনা। এর জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ধর্ম চর্চা ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। এগুলো একদিনেই সম্ভব নয়। নাগরিক সচেতনতা, ক্যাম্পেইন, আলেম ওলামাদের দাওয়াতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে।
‘যদিও সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের নৈতিক ভিত্তির দিকটি উঠে এসেছে। তারা একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। সেইসঙ্গে নৈতিকতার অনেক উদাহরণও তুলে ধরেছে।’
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন মনে করছেন, ধর্ম ও নৈতিকতাবোধের শিক্ষা সিলেবাসে যথেষ্ট পরিমাণ রাখতে হবে। সেমিনার সেম্পোজিয়ামের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিবর্তন আনা সম্ভব। পরিবেশ ও মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু বই পুস্তক পড়েই এসব পরিবর্তন সম্ভব নয়।
