অনলাইনে বাড়ছে ধর্মীয় প্রকল্প ও উদ্যোগ

ওমর ফারুক ঃ

সময়টা তথ্য প্রযুক্তির। প্রযুক্তির ডানায় ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। মানুষের জীবন যাত্রাতেও লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। প্রযুক্তি সহজ করে দিয়েছে জীবনের নানা কাজ। ফলে প্রযুক্তি নির্ভর জীবনেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ। এখন অনলাইনেই সম্পন্ন হচ্ছে কেনাকাটা, টিকেট সংগ্রহ,খাবার অর্ডার ও অর্থনৈতিক লেনদেনসহ রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এসব যেমন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তেমনি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনলাইনে অনেক ধর্মীয় উদ্যোগও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ধর্মীয় সেবার খুঁজেও মানুষ এখন অনলাইনে ঢু মারছেন। ধর্মীয় প্রচার ও তথ্য সংগ্রহের জন্য অনলাইন এখন একটি বড় মাধ্যম। অনলাইনের মাধ্যমে কুরআন শেখানো, ভাষা প্রশিক্ষণ, ফতোয়া প্রদান ও প্রচারের কাজ করে যাচ্ছেন অনেকে । অনলাইনের সহায়তায় অনেক ধর্মীয় ও সামাজিক সেবাও বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে আঞ্জাম দেওয়া হচ্ছো। বাড়ছে এর জনপ্রিয়তাও। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এসব সেবা চোখে পড়ার মতো। এ সেবা প্রদানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেই প্রধানত বেছে নিচ্ছেন সেবা প্রদানকারীরা।

এসব বিষয়ে কথা হয় তরুণ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও জার্মানিতে অবস্থিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মাহবুব ভুঁইয়ার সঙ্গে। । তার কথায় উঠে এসছে অনলাইনে ধর্মীয় কাজের ইতিবাচক সাড়া, সম্ভাবনা ও সঙ্কটের নানাদিক।

অনলাইন উদ্যোগের প্রেক্ষাপট বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ধর্মীয় সেবা ও উদ্যোগের ধারণা বেশ নতুন। এক দশকও হয়নি মানুষ অনলাইনে ধর্মীয় সেবা প্রদান ও গ্রহণ করছে। বিষয়টির প্রসার শুরু হয়েছে ২০১০ সালের পর থেকে। যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব কাজ আরও অনেক আগ থেকেই শুরু হয়েছে ।

‘ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা প্রথমত ব্লগিং এর মাধ্যমে অনলাইনমুখী হন। ব্লগিং ব্যবহার করে নাস্তিকতা ও ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের বিষয় সামনে আসার পর থেকে তারা সচেতন হন এবং ব্লগিং ও ধর্মীয় প্রচারের কাজটি শুরু করেন। যদিও আলেমদের ব্লগিং শুরুর সময়টিতে এর জনপ্রিয়তা কমে আসছিল। মানুষ তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমমুখী হচ্ছিল। তারপরও সেসময় অনেক কওমি তরুণের উদ্যোগে ব্লগ সাইট খোলা হয়। তবে বর্তমানে এগুলো তেমন একটা সচল নয়।’

কী কী ধরণের ধর্মীয় কাজ অনলাইনের মাধ্যমে হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে তো অনেক জনপ্রিয় কিছু সাইট রয়েছে, যেগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরণের সেবা দিচ্ছে। যেমন ইসলাম কিউএ ডট ইনফো (islamqa.info) নামের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের জবাব দেওয়া হয়। অনলাইনে পবিত্র কুরআনের অনুবাদ এবং তাফসীর পড়ার জন্য রয়েছে কুরআন ডট কম (quran.com)। আর বাংলা ভাষায় হাদিস পড়ার জন্য বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আই হাদিস ডটকম (iHadis.com) শুরু হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা হাদীস ভিত্তিক নানারকম সেবা দানের চেষ্টা করেন। কওমি অঙ্গনের আসহাবে কাহাফের উদ্যোগে নবীজীবন ভিত্তিক ওয়েবসাইট সীরাতুর রাসুল ডটকম এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নবীজী ডটকম (nobijee.com) নামের একটি সাইট এ সেবাটি দিয়ে যাচ্ছে।

‘এছাড়াও বাংলাদেশের সকল মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন সার্ভিস দেওয়ার জন্য শাবাকা সফট যাত্রা শুরু করেছিল। মূলত শাবাকা সফটের যাত্রার সাথে তরুণ আলেমরা সম্পৃক্ত ছিলেন। যা পরবর্তিতে সফলতার সাথে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে নিয়ে আসতে ভূমিকা রাখে।’ ‘এছাড়া ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাণে সহযোগী কিছু প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। যারা ওয়েবসাইট নির্মাণ থেকে শুরু করে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করার চেষ্টা করে। এদের মধ্যে অন্যতম শাবাকা সফট ও শাবাকা আইটি।’

এছাড়াও ধর্মীয় বিষয় প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কিছু ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে। রিসালাতুল ইসলাম ও থিঙ্ক টুইচ, এর মধ্যে অন্যতম। প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক সাইট জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকা ও আহলে হক মিডিয়া সার্ভিসসহ আরও অনেক সাইট আছে। এছাড়াও ফেসবুকে নানা রকম গ্রুপ খুলে ধর্মীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। যেমন রুকাইয়া বিষয়ে সেবা প্রদান করছে রুকাইয়া সাপোর্ট গ্রুপ।

তবে অনলাইনে ধর্মীয় উদ্যোগের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সেবার মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আবশ্যক বলে মনে করছেন মাহবুব ভুইয়া। তিনি বলেন, দেশের সকল মাদরাসা তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ধর্মীয় সেবার ধারা আরও ব্যাপক করতে পারেন। বিনামূল্যে ভাষার ওপর কোর্স চালু করতে পারেন। বড় বড় মাদরাসাগুলোর বিশেষায়িত কিছু দরস শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে লাইভ সম্প্রচার করতে পারে। এতে ধর্মীয় জ্ঞানের প্রচার আরও সহজ হবে। তাদেরও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়বে।

আগের সংবাদপথের ফুল পথশিশু
পরবর্তি সংবাদরোমানিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে ৫০ হাজার মানুষ