
ইফতেখার জামিল ঃ
বাংলাদেশের প্রাচীন সূফী-দরবেশ-আলেমদের নিয়ে একটা ব্যাপক ভুল ধারণা আছে। নব্য নৈরাজ্যবাদী ইসলামপন্থীদের মতে, সেই সূফী-দরবেশরা বোধহয় সবাই বেদাতি ছিলেন, অশিক্ষিত ছিলেন ও অরাজনৈতিক ছিলেন, এই ধারণা ভুল। বাংলাদেশের সেকুলাররাও এর কাছাকাছি ধারণা পোষণ করেন।
যারা বেদাতি, অশিক্ষিত ও অরাজনৈতিক,তাদের পক্ষে কখনোই এত ব্যাপক প্রভাব বিস্তার সম্ভব ছিলোনা। আপনি যদি ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন, তাদের বিপুল অংশের নামের শুরুতে শহিদ বা গাজি শব্দটি ব্যবহার করা হয়। প্রচুর পীর-মাশায়েখ দ্বীন প্রচার করতে ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রাণ দিয়েছেন। শ্রম ও ঘাম ব্যয় করেছেন। একেকজন একেক এলাকায় ইসলাম বহন করে নিয়ে গিয়েছেন, একেকটা এলাকার মানুষদের ইসলামে দীক্ষিত করেছেন। প্রতিষ্ঠানহীনভাবে ও সামান্য কিছু অনুসারী নিয়ে কীভাবে এলাকার পর এলাকায় আলো ছড়িয়েছেন, এর ব্যাপক পাঠ ও গবেষণা জরুরি। মনে রাখবেন, এরাও আমাদের সালাফে সালেহিন। পূর্বপুরুষ।পরিচয়।
আজকে ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা সক্রিয় হচ্ছেন, তাদের অনেকের মধ্যে চিন্তাগত নৈরাজ্য কাজ করে । একটা বড় অংশ অসক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। এই নৈরাজ্য ও অসক্রিয়তার মাঝামাঝি পথ আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দেশের সালাফ পীর-মাশায়েখগণ কোনঅর্থেই অসক্রিয় ছিলেননা। নিজের মত নিজের এলাকায় আলো ছড়িয়েছেন। মানুষকে ঈমান, আকিদা, ইবাদাত, ইলম ও তাসাউফ শিখিয়েছেন। জুলুম প্রতিরোধ করতে শিখিয়েছেন। আবার তারা নৈরাজ্য করেননি। এ অঞ্চলের মুসলমানরা সম্পূর্ণ ঠিকঠাক ইসলাম পালন করছেনা। সব বিধান মানছেনা। রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে,এটা জেনেই তারা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি, সমাজকে তাকফির করেননি। অমুসলিমদেরকে কাছে টেনে হেদায়েতের চেষ্টা করেছেন। আপনার আমার আকিদা ও পরিচয় তাদের অসিলাতেই গড়ে উঠেছে।
সুনীলের প্রথম আলো বা আনিসুল হকের যারা ভোর এনেছিল_এর বাঙ্গালী চেরাগায়নের বহু আগেই আপনার চেরাগায়ন ঘটে গেছে_ আপনি এর খোঁজ রাখেননা। বাঙ্গালী হিন্দু জাতীয়তাবাদ বা সেকুলার জাতীয়তাবাদ আসলে আধুনিক ব্যাপার।নয়া ইতিহাস ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তারা একইসাথে হাজারবছরিও হয়েছে, চেরাগায়নের অধিকারীও হয়েছে। কিন্তু বাঙ্গালী মুসলমানরা নিজেদের ইতিহাস ব্যাখ্যা দূরে থাক, নাকচের চেষ্টা করছেন। দুঃখজনক!
