নির্বাচনী প্রচারণায় অনলাইনকে যেভাবে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক দলগুলো

রাগিব রব্বানি

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাতে আছে আর মাত্র ৫ দিন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন তুমুল আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরা ব্যস্ত নানামুখী প্রচারণায়। এবারের নির্বাচনে মাঠের প্রচারণার পাশাপাশি অনলাইন-প্রচারণাও গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতিটা রাজনৈতিক দলের কাছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শীর্ষ দুই জোট—মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট—কেন্দ্রীয় আয়োজনে করছে নির্বাচনের অনলাইন-প্রচারণা। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে উভয় জোটই নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে বিভিন্ন রকমের বক্তব্য সংবলিত শর্ট-ভিডিও ও লেখালেখির মাধ্যমে। এ প্রচারণায় পিছিয়ে নেই ইসলামি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোও।

অনলাইনে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। ফেসবুকে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও প্রার্থীদের বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে ছোট ছোট ভিডিও-ক্লিপে আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরের কীর্তি ও অবদানের নানা চিত্র তুলে ধরে শেয়ার করা হচ্ছে। চাওয়া হচ্ছে নৌকা মার্কার সমর্থন। ফেসবুকের বোস্ট অপশনের কল্যাণে তা ছড়িয়ে পড়ছে লাখো মানুষের হোমপেজে।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টও অনুরূপ ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে তাদের বক্তব্য একটু ভিন্ন ধরনের। বর্তমান সরকারের নানা রকম সমালোচনা ও বাংলাদেশের গত ১০ বছরের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরে ভিডিও ক্লিপগুলোতে বলা হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর প্রত্যেক ভোটার যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ৩০ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীনরা জনগণকে সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করে জনগণকে এ অন্যায়ের প্রতিরোধ করার জন্য এ দিন সজাগ ও সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে ভিডিওক্লিপগুলোতে।

দুদিন থেকে এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। ‘আপনারাই বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এ ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমে নিজের নাম ও পরিচয় দিয়ে তরুণদের উদ্দেশ্য করে মোটিভেশন-মূলক কথা বলছেন। তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধে নিজের মনোবল কেমন ছিল ব্যাখ্যা করে বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণদেরকে মনোবল চাঙ্গা করে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকল বাধা মুকাবেলা করে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি দেশের স্বার্থে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কেউ যাতে ভোট ডাকাতি করতে না পারে। কোনোরূপ কারচুপির চেষ্টা করা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ করতে হবে। কারণ আপনারাই বাংলাদেশ। আমরা ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, আপনারা দেশের সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য ৩০ ডিসেম্বর—একটা দিন সক্রিয় হোন সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

ইসলামি ঘরানা থেকে যারা জোটের বাইরে নির্বাচন করছেন, অনলাইনে বড় দুই জোটের মতো অতো আয়োজন করে তাদের গোছালো কোনো প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন নিজেদের সমর্থক ও কর্মীদের দ্বারা লেখালেখির মাধ্যমে মোটামুটি ভালো একটা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইনে নির্বাচনের এই প্রচারণা কতটা প্রভাবিত করতে পারে ভোটারদের, জানতে চেয়ে মুঠোফোনে কথা বলেছিলাম ড্যাফোডিলের শিক্ষক ও আলেম মাওলানা ফয়সল পাশার কাছে। তিনি ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে বলেন, অনলাইন-প্রচারণা তো যার যার কাজ অনুযায়ী অবশ্যই ভালো একটা প্রভাব ফেলবে ভোটারদের মধ্যে, কিন্তু আখেরে ফলাফলটা কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা আছে।

মাওলানা ফয়সল পাশার মতো অনেকেই দ্বিধান্বিত আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনে প্রার্থী ও দলগুলোর প্রচারণার চেয়ে তাঁরা বেশি ভাবছেন ৩০ ডিসেম্বর নিয়ে। ৩০ ডিসেম্বর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন এ দেশের জনগণ উপহার পাবে কি-না, সেটাই এখন বড় প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার মনে।

আগের সংবাদফেনীতে জামাত-বিএনপি নেতাকর্মীসহ আটক ২৪
পরবর্তি সংবাদআইন অনুযায়ী সব কাজ করবে সেনাবাহিনী: সিইসি