দেওবন্দের নামে ভয়ঙ্কর জালিয়াতি করলো কারা?

জুনায়েদ ইশতিয়াক 

গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদ অনুসারীরা দেওবন্দের নামে একটা মিথ্যা বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। যে বক্তব্যে দাবী করা হয়েছে, দেওবন্দ গতকাল মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত ওয়াজাহাতি জোড়ের ঘোষণার সাথে একমত নয়। অবশ্য পরবর্তীতে দেওবন্দের মোহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানীর স্বাক্ষরে দেওবন্দের অফিশিয়াল সাইটে এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এই জালিয়াতি নিয়ে ধর্মীয় মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। ধর্মীয় কাজে এমন জালিয়াতির অর্থ কী, সাম্প্রতিক বিবাদে তাবলীগের একাংশের নৈতিক ভিত্তি কি খুবই নীচে নেমে গেছে,এই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

মাওলানা সাদের বিভ্রান্তিকর অবস্থান ও বক্তব্যের কারণে এখন আর তার অনুসরণ করা বৈধ হবেনা বলছেন বড় বড় অনেক আলেম। প্রথমে অভ্যন্তরীণভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও মাওলানা সাদ তার অবস্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করেন। ফলে আলেমরা এখন প্রকাশ্যেই বলছেন, মাওলানা সাদের অনুসরণ বৈধ নয়। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানাতেই গতকাল মোহাম্মদপুরে জোড় অনুষ্ঠিত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাদ অনুসারীরা তাদের অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ে যাচ্ছে বলে ভয় পাচ্ছেন। এ কারণেই জালিয়াতির আশ্রয় নিতে পারেন বলে অনেকে মত ব্যক্ত করছেন।

মাওলানা সাদ তার ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন দিন দিন। এজন্য বিশেষ কিছু পদক্ষেপও নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে সহজ সরল তাবলীগী কিছু সাথীদের নিজামুদ্দিনে ডেকে নিয়ে লড়াইয়ের শপথও পড়িয়েছেন। তিনি বুঝানোর চেষ্টা করেছেন, তিনিই হক। ফলে এর জন্য তাদেরকে সব ধরণের চেষ্টা চালাতে বলছেন।

বাংলাদেশে ফিরে এই অনুসারীরাই নানারকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। নানা অনৈতিক কাজের জন্ম দিচ্ছেন। অভিজ্ঞ মহল বলছেন, বক্তব্য জালিয়াতি এই অনৈতিকতারই অংশ।