কেমন চলছে ইমরান খানের পাকিস্তান?

ওমর ফারুক :

একসময়ের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান। এখন তিনি দেশেরও অধিনায়ক। ২১ বছর সাধনার পর বসেছেন পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদে। গত ২৫ জুলাই সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর জোট সরকার নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। তিন মাস হলো ইমরান খানের ক্ষমতার বয়স। এরই মধ্যে নানা কারণে আলোচিত হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

গত তিন মাসে ইমরান খানের আলোচিত বিষয়গুলোর মাঝে রয়েছে, মদীনা সনদে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার, ঋণের বোঝা থেকে পাকিস্তানকে মুক্ত করতে সরকারি ব্যয় কমানো, এমপি মন্ত্রীদের ভিআইপি প্রোটকল বাতিল, চিকিৎসার জন্য সরকারি খরচে কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা, প্রধানমন্ত্রী হাউজের পুরনো গাড়ি নিলামে তোলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের পুষ্টিগুণ পূরণের বরাদ্ধকৃত মহিষও নিলামে তোলা, সিপেক প্রকল্পে সৌদি আরবের অংশগ্রহণ, বাঁধ নির্মানে বিদেশিদের কাছে অনুদান প্রত্যাশা, কাদিয়ানী অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ, ভারতকে বন্ধুত্বের আহ্বান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তাসহ আরও কিছু বিষয়।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পাকিস্তানকে মদীনার রাষ্ট্রের আদলে গড়ে তোলার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা থেকেই মূলত আলোচনার সূচনা। ইমরান খান তার প্রথম বক্তব্যে বলেন, ‘মদিনা রাষ্ট্রের আদলে পাকিস্তান গড়ে তুলবো। যেখানে বিধবা ও এতিমরাও সরকারের সেবা পাবে। মহানবী (স.) যেভাবে রাষ্ট্র চালাতেন সেভাবে চলবে পাকিস্তান।’

এভাবেই একের পর এক ধর্মীয় অনুরাগী বক্তব্য দিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন বিশ্ব ও মুসলিম উম্মাহর। পাকিস্তানের প্রতিবাদের মুখেই ন্যাদারল্যান্ডে মহানবী (সা.)কে নিয়ে কাটুর্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল উদ্যোক্তারা। এটিকেও পাকিস্তান বেশ সাফল্য হিসেবেই দেখিয়েছে। এছাড়া কাদিয়ানী অর্থ উপদেষ্টাকেও বাদ দিয়ে কট্টর সমালোচনা আলোচনার মুখে পড়েছিলেন ইমরান খান।

এসব ছাড়াও তিনি প্রতিবেশি দেশ ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ নয় শান্তির নীতিতে হাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এর প্রথম উদ্যোগেই বিফল হয়। ইমরান বলেন, ‘ভারত এক পা এগুলে, আমি দুই পা এগিয়ে যাব। আমি সৌহার্দ্য চাই।একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করে কোন লাভ নেই। আমরা সবাই মিলে দারিদ্র্যমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়তে কাজ করতে পারি’।

ইমরানের ভারত পাকিস্তান নীতি

পাকিস্তান যখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বহু সমস্যার মুখে রয়েছে, তখন পররাষ্ট্রনীতিতে যৎকিঞ্চিৎ অভিজ্ঞতাধারী ইমরান খান দেশটির ক্ষমতায় এসেছেন। ইতিবাচক মানসিকতা থেকে পররাষ্ট্র নীতির সূচনা করলেও অপর পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পাকিস্তান একটি ইস্যু হয়ে পড়েছে এবং নরেন্দ্র মোদির সরকার আগামী বছর নির্বাচনী বৃত্তে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বিধায় এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা কঠিন।

ভারতের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ চিঠির মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন ইমরান খান।ইমরান খান বলেন, ভারত এবং পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। বিশেষ করে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা করতে হবে।

ইমরানের এ ডাকে ভারত প্রথমে সাড়া দিলেও কাশ্মীরে জঙ্গিবাদেও দোহাই দিয়ে ও দক্ষিণ কাশ্মীরে তিন পুলিশকর্মী অপহরণ ও হত্যার ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করেছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আর শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। পাশাপাশি সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাবও বাতিল করে ভারত।

কাদিয়ানী অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ

ইমরান খান নতুন করে আবার আলোচনায় আসেন তার উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য নিয়ে। ক্রিকেটের মাঠের এই দক্ষ খেলোয়াড় সবসময় চেয়েছেন তার দল থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত ‘দক্ষ’ লোকের সমাগম থাকুক। সেই লক্ষে অর্থ উপদেষ্টা হিসবে নিযুক্ত করেছেন বিশ্বের সেরা অর্থনীতিবিদদের একজন আতিফ মিয়াঁকে। বলা হয়, আতিফ মিয়াঁ আগামী ৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে নোবেল পেতে পারেন।

স্বাভাবিকভাবে একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদকে উপদেষ্টা নিয়োগ করে নন্দিত হওয়ার কথা ছিল ইমরান খানের। কিন্তু না, তিনি ধর্মীয় কারণে এ অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত কাফের স¤প্রদায় থেকে একজনকে দেশের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসিন করায় পাকিস্তানি জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে এখন এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, একজন কাফের কাদিয়ানীর হাতে পাকিস্তানের অর্থনীতি কি করে নিরাপদ থাকতে পারে?

এর আগে ২০১৭ সালে দেয়া এক জনসভায় আতিফ মিয়াঁকে অর্থমন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইমরান খান, পরবর্তীতে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে ইমরান খান জানান, আতিফ মিয়াঁ যে কাদিয়ানী, তা তার জানা ছিল না। এছাড়াও একাধিক সাক্ষাৎকারে কাদিয়ানীরা কাফের বলে মন্তব্য করেন ইমরান খান। একবার এক সাক্ষাৎকারে কাদিয়ানীদের কাফের বলায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন আতিফ মিয়াঁ। সেখানে তিনি ইমরান খানকে ‘খোদা’ না সাঁজতে অনুরোধ করেন।

তবে সব কিছুর পরেও একজন কাদিয়ানীকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা করা নিয়ে নতুন বিতর্কে পড়েছিলেন ইমরান খান। তবে তাকে বাদ দিয়ে নিজেকের রক্ষা করলেন। তার দল থেকে বলা হয়, সরকার আলেম-উলামা ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তাদের মাঝে বিভ্রান্তি ঘটুক তা আমরা চাইনা।

ইমরানের সুইডেন মডেল বনাম বাংলাদেশ মডেল

পাকিস্তানকে সুইডেনের মডেল বানানোর ঘোষণা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইমরান খান। তার এ ঘোষণার সমালোচনা করে পাকিস্তানের একজন সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক জায়গাম খান ইমরান খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইমরান খান পাকিস্তানকে সুইডেনের মতো বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দিন। পাঁচ বছর নয়, দশ বছরে তা বানিয়ে দিন। তাহলে আমরা ইমরান খানের জন্য ফেদা হয়ে যাবো। অথচ এটাও হবে না। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সঙ্কট দুর্নীতি। দুর্নীতি দূর হয়ে গেলে দেশ ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের থেকে অনেক বেশি দারিদ্র দেশও আমাদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। সবার আগে আমি বাংলাদেশের কথাই চিন্তা করবো। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তালিকায় আমাদের থেকে ২৪ নাম্বার পিছিয়ে আছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) প্রকাশিত ২০১৭ সালের দুর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ৪ নাম্বারে এগিয়ে আছে। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ২৮ ও পাকিস্তান ৩২। আমাদের থেকে এতো বেশি উন্নয়ন করছে যে, যদি পিটিআই সবকিছু ঠিক করতে চায় তাহলেও বাংলাদেশের মতো হতে দশ বছর সময় লাগবে।

ইমরানের বাঁধ নির্মান প্রকল্প

চলমান পানি সঙ্কট পাকিস্তানের জন্য জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা। পানির ভয়াবহ সঙ্কটের কথা উলে­খ করে তিনি বলেন, আগামী সাত বছরের মধ্যে যদি নতুন কোনো পানি আধার নির্মাণ করা না হয়, তবে দেশে পানিশূন্য অবস্থা দেখা দিতে পারে। ইমরান খান বলেন, প্রবাসী পাকিস্তানিরা, বিশেষ করে যারা ইউরোপে বসবাস করেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে অন্তত একশ’ ডলার করে দান করতে পারেন। বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনো দেশ ঋণ দিতে চাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ এখন অতিরিক্ত ঋণের বোঝা বহন করছে।

ইমরানের এ আহ্বানে ব্যাপক সাড়াও পড়েছে দেশটিতে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বাঁধের জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থের এক চতুর্থাংশ জমা পড়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

মার্কিন নীতি

গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

কিন্তু এখনও দুই দেশের মধ্যে মতাদর্শের কিছু পার্থক্য রয়ে গেছে, বিশেষ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে। তা ছাড়া কিছু দিন আগেই পাকিস্তানের জন্য বিলিয়ন ডলার সাহায্য বাতিল করেছে ওয়াশিংটন।
পাকিস্তানের ডেইলি নিউজ পত্রিকার সাংবাদিক মনির আহমেদ বলছেন, দুই দেশের কর্মকর্তারাই বিশ্বাস করছেন, যে সম্পর্ক প্রায় ভেঙে গেছে, সেটি নতুনভাবে শুরু করার জন্য উভয় দেশই রাজি আছে।

ইমরান খান ও মাইক পম্পেওর বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং আফগানিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালেবানের ওপর প্রভাব কাজে লাগাবে পাকিস্তান।

সিপেক প্রকল্পে সৌদি আরব

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) প্রকল্পের কৌশলগত অংশীদার হতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ইমরান খান সৌদি সফরে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিক ও ক্রাউন প্রিন্সকে এ প্রকল্পের অংশীদার হতে আহ্বান জানালে সৌদি আরব এতে সম্মতি দিয়েছিল। সিপেকের জন্য এটিকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির পদক্ষেপ

তীব্র দেনার দায়ে পাকিস্তান এখন জর্জরিত। ক্ষমতা গ্রহণের দিনই ইমরান ঘোষণা করেছিলেন, তার জন্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। সেই লক্ষেই ইমরান খান গঠন করেন ১৮ জন বিজ্ঞ অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে ‘অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ (ইএসি)’। এছাড়াও ব্যয় সংকোচন নীতির ওপর সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে এনেছেন। ইমরান তার ক্ষমতা শুরু করেছেন তার সরকারের কৃচ্ছসাধন নীতির মাধ্যমে। শপথ গ্রহণের পরদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি খোলাসা করেছেন কীভাবে সরকারি খাতে দেদার অর্থ অপচয় হয়। এর পরদিনই ব্যাপকভাবে তিনি সরকারি খরচ হ্রাস ও দুর্নীতির অবসান ঘটানোর ঘোষণা দেন।

এই খরচ কমানোর জন্যে শুরুর দিনই প্রধানমন্ত্রীর জন্যে নির্ধারিত সুবিশাল বাংলো বাদ দিয়ে তিন কামরার ফ্লাটে উঠেছেন, বাসভবনের কর্মচারীর সংখ্যা ৫২৪ থেকে কমিয়ে ২ জনে নামিয়ে এনেছেন। নিজে এবং সরকারি কর্মকর্তা কেউই বিমানে ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ না করা এবং দামি নৈশভোজ ও চা নাশতার খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকারি বাসভবনের গাড়ি নিলামে

ঋণের বোঝা কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শতাধিক বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রির জন্য নিলামে তুলেছে দেশটির তেহরিকই-ই ইনসাফ পার্টির সরকার। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বুলেট প্রুফ কারসহ বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো দামী ব্রান্ডের গাড়ি। বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় গাড়িগুলোই শুধু বিক্রি করা হচ্ছে এই নিলামে। নিলামে তোলা গাড়ির সংখ্যা মোট ১০২টি। পিটিআই দলের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে, নিলামে তোলা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৫ মডেলের ৫ হাজার সিসি মার্সিডিজ বেঞ্জ, যেটি বিক্রি হয়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে। এছাড়া ভি৮ মডেলের একটি ল্যান্ডক্রুজার বিক্রি হয়েছে দুই কোটি ৭৪ লাখ রুপিতে।

মহিষও নিলামে তুললেন ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের এটি এক অভিনব ঘটনা। নিলামে তোলা হয়েছে আটটি মহিষ। সেগুলো বিক্রি হয়েছে ২৩ লাখ টাকায়। পাক সরকার সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, প্রবল আর্থিক অনটনের কারণেই মহিষ নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই মহিষগুলো কিনেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সেগুলো এতদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেই ছিল। নিলামে তুলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। শরিফের সমর্থকরাই মহিষগুলো কিনেছেন বলে জানা গেছে। যদিও নিলামে যোগ দেওয়া অনেক ব্যক্তির দাবি, যা দর রাখা হয়েছিল মহিষগুলোর আসল দাম তার চেয়ে অনেক কম। এ নিয়ে নিলাম চলাকালীন তর্কবিতর্কও শুরু হয়ে যায়। যদিও শেষপর্যন্ত ভাল দামেই বিক্রি হয়েছে মহিষগুলো।

বাঙালি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা

পাকিস্তানে জন্ম নেয়া বাঙালি ও আফগান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি ও আফগান শরণার্থীদের সন্তান এবং অভিবাসী শ্রমিকরা পাকিস্তানের পাসপোর্ট পাবেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ না থাকায় করাচির নিম্ন শ্রেণির মানুষজন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য সিন্ধু প্রশাসনকে দুই মাসের সময়ও বেঁধে দিয়েছেন ইমরান খান।
পাকিস্তানে প্রায় ২৮ লাখ বাঙালি বসবাস করেন। এদের মধ্যে ১৫ লাখই আবার করাচিতে বসবাস করেন। তবে এই বিপুল সংখ্যক বাঙালিকে এখনও নাগরিকত্ব দেয়নি পাকিস্তান। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শেষ কথা

গত তিন মাসের এসব আলোচিত ঘটনাই বলে দিচ্ছে পাকিস্তানকে কীভাবে দাঁড় করাতে চান ইমরান খান। তবে বিরোধী দলীয় নেতাদের চাপের মুখে কতোটা সফল হবেন এখন দেখার বিষয়। কারণ, তারা মনে করছেন ইমরান সেনাবাহিনীর পুতুল সরকার। নির্বাচনে তার জয়ের পেছনে সেনাবাহিনীর হাত ছিল। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানকে এগিয়ে স্বপ্নে বিভূর ইমরান। শেষটা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।

আগের সংবাদইতস্তত কৈশোরের আলাপ
পরবর্তি সংবাদশোকরানা মাহফিল করা মন্দ কিছু নয়, এটি কৃতজ্ঞতা আদায়: মুফতি ওয়াক্কাস