নারীর প্রতি যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে কতোটা সফল হবে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলন ?

ওমর ফারুক 

হলিউড-বলিউড থেকে নিয়ে টলিউড-ঢালিউড—শোবিজ জগতেজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যৌন নিপীড়ন বিরোধী ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলন। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, ভিলেন—কেউ বাদ যাচ্ছেন না এই অভিযোগ থেকে। এমনকি এক্ষেত্রে নায়করাও হয়ে যাচ্ছেন খলনায়ক। সম্পাদক, প্রকাশক, লেখক, রাজনীতিবিদদের নামও উঠে আসছে অভিযুক্তদের তালিকায়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নমুক্ত সমাজ ও কর্মক্ষেত্র চাচ্ছেন নারীরা।

কিছুদিন আগে ‘গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড হলিউড’-এর বিখ্যাত সিনেমা প্রযোজক হারভে উইনস্টেইন-এর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে উঠে এলে, ‘মি টু’ শব্দ দুটি ছড়িয়ে পড়ে অভিনেত্রী আলিসা মিলানোর হাত ধরে। মিলানোর ডাকে ‘মি_টু’ হ্যাশট্যাগযুক্ত কয়েক মিলিয়ন টুইট পড়ে সেসময়।

সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রীদের হাত ধরে এই আন্দোলন ফের গতি পায়। সর্বশেষ অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত পরিচালক ও অভিনেতা নানা পাটেকর এবং বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনার পর এ আন্দোলন আবারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এছাড়াও আরও বিশজন নানান পেশার নারী সাবেক সাংবাদিক, সম্পাদক ও রাজনীতিবিদ বিজেপির প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন। এর ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীসভা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দেখতে দেখতে গোটা ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন।

সম্প্রতি এই আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশি মেয়ে শুচিস্মিতা সীমন্তি ‘হ্যাশট্যাগ মি-টু’ লিখে তার সঙ্গে ১১ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন।উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের থাকা সীমন্তি অভিযোগ করেছেন, ডিবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিক প্রণব সাহার বিরুদ্ধে। এদিকে, আয়ারল্যান্ড প্রবাসী মডেল এবং অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি গত ২৯শে অক্টোবর ফেসবুকে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ উঠে এসেছে দেশের অন্যতম প্রকাশনা সংস্থা ‘পাঠক সমাবেশ’র মালিক শহিদুল ইসলাম বিজুর বিরুদ্ধেও।

অভিযোগকারীদের মধ্যে যেমন রয়েছে প্রায় সকল পেশার নারী, অভিযুক্তদের মধ্যেও রয়েছে নানারকম পেশার পুরুষ। অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লাটাই মূলত ভারী। কেউ বলছেন, পরিচালকের সাথে রাত কাটানোর পর সিনেমায় নিতে রাজি হয়েছেন। কেউ বলছেন, উলঙ্গ হয়ে তাদের সামনে নাচতে হয়েছে। কেউ বলছেন, পরিচালক তাকে কোলে নিয়ে চুলের ঘ্রাণ শুঁকতেন ইত্যাদি ইত্যাদি। সাধারণ মানুষও শামিল হয়েছে এই প্রতিবাদে। আবার অনেকেরই রয়েছে ভিন্নমত। কেউ কেউ বলছেন, শোবিজ জগতের এইসব ঘটনা আসলে ওপেন সিক্রেট, এখানে যা কিছু হয় সবই মিউচুয়াল, অর্থাৎ দুজনের ইচ্ছেতেই যৌন সম্পর্ক হয়। তাহলে কেন এই অভিযোগ? অনেকে বলছেন, ১১, ১২ বা ৩০ বছর পর যখন কেউ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন, তখন তার উদ্দেশ্য ও স্বরুপ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আবার এই আন্দোলনের জোয়ারে অনেক উদ্দেশ্যমূলক ও বানোয়াট অভিযোগ উঠে আসছে বলেও অনেকের ধারণা। আন্দোলনটির এলিটিস্ট চরিত্র নিয়েও কথা বলেছেন কেউ কেউ।

‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের সমাজের কথিত ‘সুশীল সমাজ’র মুখোশ খুলে যাচ্ছে। কিন্তু এই আন্দোলনের স্বরূপ আসলে কী? এর মাধ্যমে কী নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে? নাকি সুশীল সমাজের যৌন আগ্রসানের মুখোশ উম্মোাচনেই সীমাবদ্ধ থাকবে বিষয়টি? সমাজের প্রান্তিক নারীরা কি এই আন্দোলনের সুফল ভোগ করতে পারবে? নাকি সমাজের উপরতলার রহস্যময় আখ্যান ফাঁস হওয়াই এই আন্দোলনের শেষ পরিণতি? এই আন্দোলনের চূড়ান্ত ফল কী হবে? এসব বিষয়ে কথা হয়েছিল দেশের কয়েজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও ইসলামি সমাজ চিন্তকের সঙ্গে।

এসব প্রশ্নের জবাবে ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখক শরীফ মুহাম্মদ ফাতেহ২৪-কে বলেন, ‘মি টু’ আন্দোলন নারীর প্রতি নির্যাতন ও নিপীড়নের সকল সুযোগ অক্ষত রেখেই নারীকে বাঁচানোর একটি আওয়াজ। সিস্টেম লস বাজায় রেখে দুর্নীতি প্রতিরোধ যেমন কঠিন, তেমনি ‘মি টু’ আন্দোলনের আওয়াজটি সুন্দর কিন্তু পুরো সিস্টেমটাই একটা লসের মধ্যে রয়েছে। বিনোদন জগতের পদে পদেই নারীর সাথে অন্যায়ের নানারকম সুযোগ রয়েছে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে নারীর শালীনতা আর পর্দাসম্মত জীবন যাপনের বাইরে যা যা আছে, সব কিছুর মধ্যেই নারীর প্রতি যৌন হেনস্তার বিষয়টি কোন না কোনভাবে উন্মুক্ত থাকে। কেউ বলে আর কেউ বলে না। কেউ হজম করতে পারে আর কেউ হজম করতে পারে না। আর যারা এসব প্রকাশ করছে তাদের ক্ষেত্রে কী বলা হবে? হয়তো কখনো বলা হচ্ছে তারা সাহসী কিংবা হতে পারে বনিবনা হচ্ছে না বলেই তারা প্রকাশ করে দিচ্ছে। দুটি বিষয় এখানে উঠে এসেছে। আবার ঝাল মিটানোর জন্যই অনেকে অনেককে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। এমন কথাও চলছে।’

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘অভিযুক্তদের জন্যেও আদালতে এসব প্রমাণ করা কঠিন যে, এসব কি মিউচুয়াল ছিলো নাকি তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কারণ সকল আলামত থাকলেও ‘মি টু’ আন্দোলনের কোনটা স্বেচ্ছায় আর কোনটা জোরপূর্বক তা প্রমান করা কঠিন।’

‘মি টু’ আন্দোলনের মাধ্যমে কি আমাদের কথিত ‘সুশীল সমাজ’র মুখোশ উম্মোচন হচ্ছে বা বিনোদন জগত ও তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উঠে আসছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে কিছুটা তো হচ্ছে। তবে যারা ‘মি টু’ আন্দোলন করছে তারা অনেকেই ফিল্মের প্রয়োজনে নগ্ন হয়ে যায়। তারা যখন স্ক্রিনের সামনে নগ্ন হচ্ছে তখন রিহার্সেলের সময় কিংবা অভিনয়ের সময়ে নগ্ন হওয়াটা নিয়ে বা নায়ক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা তো যৌক্তিক না। এমনকি ধর্ষণ বা যৌন সঙ্গমের দৃশ্যে অভিনয়ের সময়ও অনেক অভিনেতা উত্তেজিত হয়ে অভিনেত্রীকে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। এগুলো তো ক্রিটিকাল ব্যাপার।পর্নোস্টাররাও যদি ‘মি টু’র আন্দোলনে নামে, এটি তো তখন উপভোগ্য বিষয় হয়ে উঠবে। প্রথমে ধাক্কা দিলেও পরে সব সমান হয়ে যাবে। ফলে এসব আন্দোলনের কোনো ফলাফল নেই। সবই একসময় মিটমাট হয়ে যাবে। আর যারা সত্যিকারার্থে নিপীড়নের শিকার, তারা তেমনই থেকে যাবে। তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এসব মেয়েরা ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে অনেক রকম পরিস্থিতির সাথেই নিজেকে স্বেচ্ছায় মানিয়ে নেয়। কেউ কেউ এটাকে উপভোগও করে। কিন্তু কখনো ঝামেলা হলে প্রকাশ করে দেয়। শুধু শোবিজ জগত নয়। কর্পোরেট হাউজ বা বিনোদন জগতের অনেক মেয়েই আজ ‘মি টু’র কথা বলছেন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‘বডি টু’-র মাধ্যমেই এ জগতে পা বাড়ান। এসব মানুষ বোঝেও, এসব খবর প্রায়ই জাতীয় দৈনিকগুলোর হটকেক হয়। ফলে এসব খুব সাড়া ফেলবে বলে আমার মনে হয় না।’

শরীফ মুহাম্মদ মনে করেন, গোটা সিস্টেমটাই হচ্ছে অরক্ষিত ও নারীর সুরক্ষার পরিপন্থী। তাদের অরক্ষিত অবস্থায়ই সমাজে যেতে হয়। তাই, নারীর ক্ষমতায়ন বা প্রতিষ্ঠার কথা বলার আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। নইলে হয়তো দেখা যাবে, পৃথিবীর সবচাইতে ক্ষমতাধর নারীটিও ক্ষমতায়নের পথে অনেক পুরুষের লালসার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে তরুণ সমাজ চিন্তক, আলেম ও সাংবাদিক মনযূরুল হক বলেন, ‘এমন একটি আন্দোলন ন্যায্য ও জরুরি। নারীদের এ সমাজে অনিরাপত্তা ও শঙ্কা নিয়েই পথ চলতে হয়। একটি বাসে বা লিফটে পুরুষরা যতোটা নিরাপদ বোধ করেন নারী কিন্তু ততোটা না। পুরুষরা একজন নারীর পাশে বসতে যতোটা আমোদ বোধ করেন নারীরা তা করে না। এগুলো তাদের জন্য শঙ্কার জায়গা। এদিক দিয়ে দাবিটি ন্যায্য। কিন্তু যারা এ আন্দোলন করছে বা সূত্রপাত ঘটিয়েছে তাদের চরিত্রের দিকে তাকালে বোঝা যায় তারা নারী দেহের শুদ্ধতা বা পবিত্রতা চায় না। তারা চায় দৈহিক সৌন্দর্যের মূল্যায়ন। যেটা প্রকারান্তরে নারী দেহের পণ্যায়নকেই উৎসাহিত করে। এর মাধ্যমে তারা শুধু কে কখন এই সৌন্দর্যের ভোক্তা হতে পারবে, আর কে কখন পারবে না, তার সীমারেখা তৈরি করতে চায়। কারণ তারা তো ব্যভিচারকে সমর্থন করে। আর এই অবস্থাগুলোতে সম্মতি আর অসম্মতির ভেদ টানা খুবই কঠিন।’

মনযূরুল হক বলেন, ‘দৈহিক পবিত্রতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাদের ততোটা গুরুত্ব নেই যতোটা দৈহিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে রয়েছে। এ আন্দোলন নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধও বটে। এ আন্দোলনে যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তা কতোটুকু সত্য, তাও কিন্তু উঠে আসছে না। ১৫-২০ বছর পরে তা সুষ্ঠুভাবে বের করা প্রায় অসম্ভবও বটে। ফলে এর মাধ্যমে নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, এরকম মনে হয় না।’
মনযূরুল হক বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে দেখবো কারও প্রতি কোনো অভিযোগ থাকলে তো সে অভিযোগের বিচার হবে। আর অভিযোগ প্রমাণ না হলে কিন্তু সে শাস্তি অভিযোগকারীর ওপরই বর্তাবে। ইসলামি আইনকে দোষারোপ করা হয় যে, সাক্ষী না পেলে সে ধর্ষনকারীর বিচার করে না। কথাটি আসলে ভুল, কিন্তু সেটা অন্য ব্যাপার। আমার কথা হলো, আধুনিক আইনও কি সাক্ষ্য-প্রমান ছাড়া এক পা-ও এগুতে পারছে? প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই রক্ষা পাচ্ছে। নইলে তনু হত্যার বিচার হত ঠিকই। আর এখানে শুধু অভিযোগই করা হয় কিন্তু এর কোনো সত্য মিথ্যার প্রমাণ নেই।’

‘ইসলাম নারীর ক্ষমতায়নের চেয়েও নারীর মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বেশি গুরুত্ব দেয়। মানুষের শরীরও মার্যাদাবান। শুধু শারীরিক মর্যাদার বিষয় নয়, নারীদের অতিরিক্ত কিছু সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে। যেমন মা হিসেবে, বোন হিসেবে ও স্ত্রী হিসেবে পুরুষের ওপর তাদের অনেক অধিকার রয়েছে। তাদের ভরণপোষণ ও দেখাশোনা ব্যক্তির, সমাজের, এমনকি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এসবই ইসলামে রয়েছে। এগুলো ধরে রাখার দায়িত্ব নারীদেরই। নারীরা যখন ক্যারিয়ারের লোভে সম্মতির জায়গা থেকে কাস্টিং কাউচে বসে, তখন কিন্তু সে সম্মানের জায়গাটি নষ্ট করে ফেলে।’

তারা ইসলাম না মানলেও মানবিক ও যৌক্তিক জায়গা থেকেও তাদের শালীনতা বজায় রাখা উচিত। শুধু তাদের নয়, মানুষমাত্রেরই শালীনতা বজায় রাখা উচিত। মানবিক সকল কাজকেই ইসলাম পছন্দ ও সমর্থন করে। সে হিসেবে মানবিক দিকটি বিবেচনা করেও কর্মক্ষেত্রে ও সমাজে শালীনতা বজায় রাখা সকলের কর্তব্য। নারীর ক্ষেত্রে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের সমাজ নারীদের শুধু সংগ্রামী বানাতে চায়, কিন্তু নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। খলিফাদের যুগে অনেক নারী দূর-দূরান্ত থেকে মদিনায় এসে হজ্জ করতেন, কেউ তাদের কোনরকম অসম্মান করতো না। কারণ তখন সমাজে একদিকে নৈতিক সুকুমারবোধ আরেকদিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিলো। তাই দোষারোপের জায়গাটি থেকে বের হয়ে যৌক্তিক আন্দোলনে আসা প্রয়োজন। নইলে বিখ্যাত অভিনেত্রীরা হয়তো আরেকটু বিখ্যাত হবেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।’

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদযুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
পরবর্তি সংবাদকওমি শিক্ষাক্রম ও ‘মুয়াদালা’ প্রসঙ্গ