যেভাবে ইসলামের আলো খুঁজে পেলেন জাপানি নারী নাকাতা

ফিচার ডেস্ক

একসময় সৃষ্টিকর্তার প্রতি তেমন কোন বিশ্বাস ছিল না নাকাতার। কিন্তু শেষমেশ গ্রহণ করলেন ইসলাম। সৌভাগ্যবতী এ নারীর পুরো নাম কাওয়ারায়ি নাকাতা। জাপানের বাসিন্দা তিনি।

নাকাতা তাঁর ইসলামগ্রহণের প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমার জীবনের সব কিছুই চলছিল ভালভাবে। আমি সৌভাগ্য অনুভব করতাম। কখনও আল্লাহর অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি। কিন্তু হঠাৎ আবিস্কার করি যে, আমার জীবন পুনরাবৃত্তিতে একঘেয়ে হয়ে আছে ও জীবনের কোনো অর্থ নেই। তখন থেকেই সত্যকে খুঁজতে থাকি।’

নওমুসলিম মিসেস নাকাতা আরো বলেছেন, ‘আমি বসবাস করতাম কিয়েটো নামক ঐতিহাসিক শহরে।এই শহরে রয়েছে নানা ধরনের উপাসনালয়। আমাদের বাসভবনের কাছেই ছিল একটি ইবাদতকেন্দ্র। আমি প্রতিদিন সকালে সেখানে যেতাম ও প্রার্থনা করতাম। তিন মাস ধরে প্রতিদিন এই প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছিলাম। সত্যের সন্ধানেই এই প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দোয়ায় মনোযোগ নিবিষ্ট বা কেন্দ্রীভুত করা ছিল বেশ কঠিন।তবে তা ছিল খুবই আনন্দদায়ক। কিন্তু কিছুদিন পরই অনুভব করলাম যে আমার ভেতরের জগত ও বাইরের বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। তাই আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম।

এর কিছুকাল পর নাকাতা জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। পড়াশোনা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ফ্রান্সে যান।

নাকাতা জানান, ফ্রান্সে পরিচিত হই এক মুসলমানের সঙ্গে। তিনি নিজের ধর্ম ইসলামকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন ও সমস্ত শক্তি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধর্মের পক্ষে কথা বলতেন। তার ওই দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমার নিজের জন্য অনুশোচনা হত।কারণ, আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। আর এ জন্য অনেক গবেষণা ও পড়াশুনার পর যখন হতাশায় ডুবে ছিলাম তখন দেখলাম যে এই মুসলমান ইসলামকে ভালবাসতেন গভীরভাবে ও এর ছায়াতলে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছেন। তাই আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গবেষণার সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে এ ধর্মের অনুসারীদের এত গভীর আত্মিক প্রশান্তির উৎস সম্পর্কে জানতে সক্ষম হই। সে সময় পর্যন্ত অনেক ধর্ম আমাকে আকৃষ্ট করলেও ইসলামের প্রতি একবারও আকৃষ্ট হইনি।

মিসেস নাকাতা ফরাসি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের একটি কপি সংগ্রহ করেন ও তা পড়তে থাকেন। এ মহাগ্রন্থ পড়ার সময় তিনি মসজিদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর একসময় ইসলাম গ্রহণ করেন নাকাতা।

ইসলামগ্রহণের আগ মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে নাকাতা বলেন, ‘আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। আমি ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হলো– নাকাতা তুমি সত্যের সরোবরে অবগাহন করতে যাচ্ছ।’

তথ্যসূত্র : পার্স টুডে

আগের সংবাদনারায়ণগঞ্জে মসজিদ কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দুই গ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১৫
পরবর্তি সংবাদইয়েমেনের হুতিদের হামলায় ৯ সৌদি সেনা নিহত