
রাগিব রব্বানি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন ইসলামি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। যার ফলে সুষ্ঠুভাবে তাঁরা প্রচারণার কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ক মুখপাত্র মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানিয়েছেন, দেশের নানা জায়গায় তাদের প্রার্থীরা মহাজোটের কর্মীদের দ্বারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোনো কোনো জায়গায় হামলাও করা হচ্ছে তাদের নির্বাচনী কর্মীদের ওপর। আজকেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা-২ আসনে। সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি রবিউলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মাওলানা ইমতিয়াজ আলম আরও জানান, আজকের এ ঘটনাসহ আরও ২০/২৫টি অভিযোগ একত্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনে তাঁরা অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে বলে তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হবে সে ব্যাপারে এখনও সন্দিহান দলটি। তবে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে আশা করছেন, কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার ব্যাপারে আরও সচেষ্ট হবেন।
এ দিকে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী—হবিগঞ্জ-২ থেকে মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ এবং হবিগঞ্জ-৪ থেকে ড. আহমদ আবদুল কাদের—এর পৃথক দুই পথসভায় গতকাল আক্রমণ চালানো হয়।
ড. আহমদ আবদুল কাদের গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটা চুনারুঘাটের স্থানীয় আমুরোড বাজারে নির্বাচনী পথসভা করছিলেন, এ সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায় সভায়। এতে ড. আহমদ আবদুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। ভাংচুর চালানো হয় গাড়ি ও প্রচারমাইকের ওপরও।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ড. আহমদ আবদুল কাদেরের নিরাপত্তা দিতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। ইসি ও প্রশাসন এ হামলার দায় এড়াতে পারে না।
তবে খেলাফত মজলিসের অপর প্রার্থী সিলেট-২-এর মুহাম্মদ মুনতাসির আলী ও সিলেট-৩-এর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন এ পর্যন্ত তেমন কোনো বাধার সম্মুখীন হননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মজলিস নেতা মাওলানা জিয়া উদ্দীন ইউসুফ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে কথা হয় দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, জমিয়তের সব প্রার্থীরাই প্রচারণার কাজ চালাতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের কর্মীদেরকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট-৫-এর প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের বেশ কয়েকজন নির্বাচনী কর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে প্রশাসন। অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আতঙ্ক। যেকোনো সময় গ্রেপ্তার বা হামলার সম্মুখীন হতে পারেন তারা। তবে প্রচারণার কাজে এ পর্যন্ত কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন জমিয়তের শীর্ষ এ নেতা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী আসন থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মইনুদ্দীন রুহীর সঙ্গে কথা হয় ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর-এর এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, সরাসরি কোনো বাধার সম্মুখীন এ পর্যন্ত আমরা হইনি, কিন্তু নানা জায়গায় লাগানো আমাদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কর্মীদেরকেও নানাভাবে দেখানো হচ্ছে ভয়-ভীতি। ব্যাপারটা স্থানীয় প্রিসাইডিং অফিসারকে আমরা ইতিমধ্যে জানিয়েছি।
