
রাগিব রব্বানি
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ও ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের হামলার বিচার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আগামী ৭ জানুয়ারি ঢাকার উত্তরায় উলামায়ে কেরাম জাতীয় পরামর্শ সম্মেলনের আয়োজন করছেন। দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেম ও তাবলিগি মুরব্বিরা উপস্থিত থাকবেন এ সম্মেলনে। এ সম্মেলনে তারা বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করবেন।
গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়িস্থ বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগি মুরব্বিদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অনুষ্ঠিতব্য পরামর্শ সম্মেলন সম্পর্কে জানতে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর আজ কথা বলে তাবলিগ বিষয়ে আলেমদের মুখপাত্র মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারির সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের পর কোন দল ক্ষমতায় আসবে, তা বলা যায় না। তবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমাদের মুরব্বি উলামায়ে কেরামদের আলোচনা চলমান। বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশ্বস্ত করছেন আলেমদেরকে। সরকার বদলালে বা বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির রদবদল হলেও ইজতেমাটা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং ১ ডিসেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা যায়, এ ব্যাপারে আলোচনা করতেই আগামী ৭ জানুয়ারির পরামর্শ সম্মেলনের আয়োজন।
বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারি। কিন্তু এ বিভাজনকে দূর করে সাদপন্থী তাবলিগিদের সাথে নিয়ে ইজতেমার আয়োজন করা কি কোনোভাবেই সম্ভব নয়? এ প্রশ্নের জবাবে মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারি বলেন, ‘সারা দুনিয়ার সিংহভাগ উলামায়ে কেরাম সাদ সাহেবের ভ্রান্তির ব্যাপারে একমত, এবং সাদ সাহেবের অনুসারীরাও তাঁর ভ্রান্ত অনুসরণ থেকে কোনোভাবেই সরে আসতে চাইছে না, এমতাবস্থায় উভয় পক্ষ যার যার অবস্থানে থেকে এক সঙ্গে ইজতেমার আয়োজন করার অর্থ হলো হক আর বাতিল একীভূত হয়ে যাওয়া। শরিয়ত এটাকে অনুমোদন করে না। তবে তাঁরা যদি নিজেদের অবস্থানকে ত্যাগ করে আলেমদের সিদ্ধান্তকে মেনে নেন তাহলে সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে ইজতেমার আয়োজনও করা যাবে।’
কিন্তু সাদপন্থী তাবলিগিরা এ ব্যাপারে খুবই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাদের ভাষায়, তাবলিগের বহিরাগত কোনো আলেমের সিদ্ধান্তকে কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না। সাদপন্থীরা বিভেদ ভুলে আলেমদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার কোনো সম্ভাবনা কি উলামায়ে কেরাম দেখতে পাচ্ছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১ ডিসেম্বরের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত উলামায়ে কেরামের আশা ছিল, সাদ সাহেব ও তাঁর অনুসারীরা একসময় নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে হকের দিকে ধাবিত হবেন এবং উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তকে মেনে নেবেন। কিন্তু ১ ডিসেম্বরের পর অপরাধী হয়েও তাঁরা যখন বুক ফুলিয়ে দ্বিগুণ হারে আলেমদের বিরোধিতায় মত্ত হলেন, তখন উলামায়ে কেরাম তাঁদের ফিরে আসার ব্যাপারে হতাশ হয়ে গেছেন।’
কোনো ধরনের মীমাংসা ছাড়া যদি উলামায়ে কেরাম ইজতেমার আয়োজন করেন, তবে সাদপন্থীরা যে আবার ইজতেমা ময়দানে হামলা করে বসবে না, এর নিশ্চয়তা কতটুকু? এ প্রশ্নের জবাবে কেফায়াতুল্লাহ আজহারি বলেন, ‘উলামায়ে কেরাম ইজেতমা সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য সবধরনের প্রস্তুতিই গ্রহণ করছেন। তাবলিগি মুরব্বি ও আলেমদের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে ২৪ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে এ বিষয়ে। ১ ডিসেম্বরের পুনারাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে ব্যাপারেও সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। আমরা আশা করছি এমন ঘটনা আগামীতে আর ঘটবে না।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাবলিগের চলমান সঙ্কট ও তাবলিগ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন বৈঠক প্রধানত বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের উদ্যোগেই হয়ে থাকে। কিন্তু বেফাক একটি শিক্ষাবোর্ড, এর কাজের ক্ষেত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষা বিষয়ে দেখাশোনা করা, এ প্রতিষ্ঠান তাবলিগ ইস্যুতে কথা বলা কতটা যৌক্তিক? শিক্ষাগত বিষয়ের বাইরের ইস্যু নিয়ে এমন উদ্যোগ-আয়োজন বেফাককে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে কেফায়াতুল্লাহ আজহারি বলেন, ‘প্রশ্নবিদ্ধ হবে কেন? তাবলিগের মূল শিকড় হচ্ছে কওমি মাদরাসা। এ মাদরাসাগুলোই তাবলিগের প্রাণশক্তি। এখান থেকে তাবলিগের আসল সাথীরা তৈরি হন। আর এ মাদরাসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কওমি মাদরাসা ভিত্তিক শিক্ষাবোর্ড। যার শীর্ষে আছে বেফাক। তাই তাবলিগের যেকোনো সঙ্কট ও সমস্যা নিরসনে শিক্ষাবোর্ডগুলোর উদ্যোগ গ্রহণ তাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব থেকেই বেফাক কাজ করছে।’
