
রাগিব রব্বানি
দীর্ঘ বিবাদের পর তাবলিগ জামাতের বিবাদমান উভয়পক্ষকে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য সাময়িক একটা সমোঝতায় নিয়ে এসেছে সরকার ও প্রশাসন। আগামী ১৫ ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি এবারের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ।
গত ২৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগি মুরব্বিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যৌথভাবে ইজতেমা আয়োজনের ব্যাপারে সম্মত হন বিবাদমান উভয়পক্ষ। তবে উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে শর্ত ছিল তাবলিগের বিতর্কিত আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
আরও পড়ুন : ইজতেমা-সমঝোতা : কিছু শঙ্কা, প্রশ্ন, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা ।। সাবের চৌধুরী
কিন্তু দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদপন্থী তাবলিগিদের দেখা গেছে একটি সংবাদ তাঁরা ঢালাওভাবে প্রচার করছেন যে, সাদ সাহেবকে এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য খুব শিগগির ধর্মপ্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে অবস্থিত তাবলিগের মূল মারকাজ নিজামুদ্দিন মসজিদ সফর করবেন। এই সংবাদ প্রচার হবার পর থেকে ২৩ তারিখে উলামায়ে কেরাম-প্রদত্ত শর্তের বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশয় দেখা দিয়েছে ইজতেমায় সাদ সাহেবের আসা না-আসা নিয়ে।
আরও পড়ুন : তাবলিগ সঙ্কট : মতাদর্শিক বিরোধ কি চিরকালই সমাধানের অযোগ্য?
ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাবলিগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাদপন্থী সাধারণ তাবলিগিদের একটা অংশ সাদ সাহেবের অন্ধভক্ত। তাদের সঙ্গে নেতৃস্থানীয় সাদপন্থীদের কমিটমেন্ট ছিল যেকোনো উপায়ে তাঁরা সাদ সাহেবকে ইজতেমায় অংশগ্রহণ করাবেন। কিন্তু সমোঝতার খাতিরে ২৩ জানুয়ারির বৈঠকে নেতৃস্থানীয় সাদপন্থীরা ইজতেমায় সাদ সাহেবের না-আসার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হন। এই শর্ত মানতে পারছেন না সাদপন্থী সাধারণ তাবলিগিরা। তাই নেতৃস্থানীয়রা ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন যে, তিনি যেন ইজতেমার আগে একবার নিজামুদ্দিন সফর করে আসেন। এবং মাওলানা সাদ সাহেবকে সার্বিক পরিস্থিতি খোলামেলাভাবে অবগত করিয়ে তাঁর কাছে থেকে এই স্বীকারোক্তি অন্তত নিয়ে আসেন যে, ব্যস্ততার কারণে তিনি এবারের ইজতেমায় আসতে পারছেন না, তবে ইজতেমার প্রতি তাঁর পরিপূর্ণ সাপোর্ট ও সহযোগিতা রয়েছে।
তাবলিগের ওই সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী সাধারণ সাদপন্থীদের শান্ত করা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য তাদের এই প্রস্তাব মেনে নেন এবং বলেন, ব্যস্ততা খানিকটা কমে এলে তিনি দু-এক সপ্তাহের ভেতর দিল্লির নিজামুদ্দিনে সফর করার চেষ্টা করবেন। তবে সরাসরি মাওলানা সাদ সাহেবের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন না বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন : ‘কেবল সাদ সাহেবের এতায়াত থেকে বেরিয়ে এলেই তাবলিগ পরিশুদ্ধ হবে না’ -মুসা আল হাফিজ
সূত্র জানিয়েছে, ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর এই সম্মতির ওপর ভিত্তি করেই সাদপন্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন যে, সাদ সাহেবকে ইজতেমায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাতে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী দিল্লির নিজামুদ্দিনে সফর করবেন।
অবশ্য প্রশাসনের সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষপর্যন্ত সাদ সাহেবকে ইজতেমায় নিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করবেন সাদপন্থীরা। সাদ সাহেব আসতে পারবেন না—এই শর্তের ওপর তাঁরা সাময়িক সম্মতি জ্ঞাপন করলেও শেষ অবধি তা মানবেন না। কারণ, সরকারের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেটা ধর্মপ্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। এবং এও বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বাইরে ইজতেমার কোনো কার্যক্রমে প্রশাসন ও সরকারপক্ষ হস্তক্ষেপ করবে না। সাদপন্থী তাবলিগিরা যদি কোনোভাবে সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, সাদ সাহেব এলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো রকমের বিঘ্নতার সৃষ্টি হবে না, তাহলেই তাঁরা ইজতেমায় নিয়ে আসবেন সাদ সাহেবকে। এবং সরকারও তখন কোনো রকমের আপত্তি করবে না
অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনটি হওয়া বেশ কঠিন। ফলে আপাতত এ নিয়ে বিস্তারিত দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
