
ফাতেহ ডেস্ক
বিজেপি সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্বশাসন তুলে নেয়ার পদক্ষেপ উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন সঙ্কট তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। অঞ্চলটিতে সঙ্ঘাত উসকে দিতে পারে বলেও মন্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।
বিবিসি ওয়ার্ল্ডের খবরে ভারত সরকারের পদক্ষেপকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এর ফলে কাশ্মীরে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।
পাকিস্তানের দ্য ডন নিউজ বলেছে, কাশ্মীরকে মুসলিম প্রধান এলাকা থেকে হিন্দুপ্রধান এলাকা করে তোলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিন্দি পত্রিকা দ্যা ইনকিলাব লিখেছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির জনসাধারণ জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (ওআইসি)।
আরও পড়ুন : প্রসঙ্গ কাশ্মীর : কী ছিল ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারায়?
কাতারভিত্তিক জনপ্রিয় পত্রিকা আল জাজিরা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভারত রাষ্ট্রপতির এক ডিক্রির মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গত সাত দশকেরর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির জন্য এটি সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। আল জাজিরা আরো লিখেছে, এই পদক্ষেপের সমালোচকরা বলছেন, সরকার আশা করছেন আর্টিকেল-৩৭০ বাতিলের মাধ্যমে হিন্দুদের কাশ্মীরে জমি কিনে বসবাসের ধারা তৈরি করে তারা মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরের জনসংখ্যার চিত্র পাল্টে দিতে পারবেন।
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, কাশ্মীরের মর্যাদার বিষয়ে এটি ভারতের যে কোন সরকারের সবচেয়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। রিপোর্টে কাশ্মীরকে ভেঙে দুই ভাগ করার ঘটনাকে ‘নাটকীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, এতে পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা বাড়বে এবং জম্মু ও কাশ্মীরিদের কাছ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়বে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন লিখেছে, কাশ্মীরের শাসন পদ্ধিতিকে বিতর্কিত এক পরিবর্তন এনেছে মোদি সরকার। সিএনএন অনলাইন তাদের রিপোর্টে লিখেছে, কাশ্মীর কার্যত স্তব্ধ এখন। একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই পদক্ষেপকে কাশ্মিরবাসীর জন্য ‘মানসিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
আরও পড়ুন : কাশ্মীর ইস্যুতে ইমরান খানকে ফোন করলেন মাহাথির মোহাম্মদ
মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের মতে এই পদক্ষেপ নতুন সংঘর্ষের ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। তারা শিরোনামে জুড়ে দেয়, ভারতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে কাশ্মীর। গণমাধ্যমটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ঘোষণার পর জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের প্রথম আলো বলছে, ৩৭০ ধারা রদ কাশ্মীরকে সাধারণ একটা ভারতীয় অঙ্গরাজ্যে পরিণত করবে। অর্থাৎ, কাশ্মীরের ‘আজাদি’র বিষয়টি বহু দূর পিছিয়ে যাবে এর মাধ্যমে। তবে বিশেষভাবে ৩৫-ক অনুচ্ছেদ বাতিলের তাৎপর্য হবে সুদূরপ্রসারী। কাশ্মীর আর আগের মতো মুসলমানপ্রধান থাকবে না। জম্মুতেও অমুসলমানদের হিস্যা বাড়ানো হবে। মূলত জনমিতি পাল্টে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নতুন এক নিরীক্ষা হিসেবেই দোভাল-অমিত শাহ জুটি উদ্যোগটি নিচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইনকিলাব, ডেইলি পাকিস্তান, বাসিরাত অনলাইন, প্রথম আলো
